
কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) জানায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জানতে পারে, মানবপাচারকারী একটি চক্র কয়েকজন মানুষকে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বাড়িতে জড়ো করেছে। পরে সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।
যার কারণে যাদের কে উদ্ধার করা হয়েছে তার নাম মোঃ করিম। তাকে পাঁচদিন ধরে একটি বাড়িতে জিম্মি করে রাখছিল। শীর্ষ মানবপাচারকারী মোঃ সাইফুল তিনি দক্ষিণ লম্বরি হাফেজ আহমদের ছেলে।
মোঃ করিম বলেন, আমি পাঁচদিন আগে সাইফুলের কাছে আসি। তিনি যেদিন আসছি সেদিন নৌকা করে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা ছিল। তিনি আমাদের কয়েক দফা বিক্রি করছেন। আমি কোন উপায় না পেয়ে পালিয়ে আসি। আমার সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা তৎপর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। সবাই নিজের ইচ্ছায় মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টেকনাফ সাইফুলের কাছে আসছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। তাদের মধ্যে বান্দরবানের লামা এলাকার মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাফায়েত হোসেন ও মো. জাফর আলম রয়েছেন।
এ ছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ এলাকার মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জোবায়ের ও মো. নুর মোস্তফাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক
বলেন, লাভের আশায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র এসব ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ওই বাড়িতে জড়ো করেছিল। তাদের নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।এ ঘটনায় জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।
মন্তব্য করুন