
দিনে চাকরি, রাতে ইয়াবা কারবার। দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম করছে উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত ফাইভ স্টার হোটেল সী পার্লের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। দীর্ঘ ৫ বছর পূর্বে উক্ত হোটেলে কস্ট কন্ট্রোলার পদে যোগদান করার পর থেকে হোটেলে আগত বিভিন্ন অতিথিদের সাথে পরিচয় হয়ে উঠে। হোটেলে আসা অথিতিদের বিভিন্ন আবদার মেটাতে জড়িয়ে পড়ে মরণ নেশা ইয়াবায়। হোটেল কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে হোটেলের বাইরে বা কক্সবাজার শহরে এসব ইয়াবা সরবরাহ করে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।
ওই সূত্র আরো জানিয়েছেন- নরসিংদী জেলার রায়পুরা পৌরসভার তাত্তাকান্দা এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে রফিকুল ইসলাম গত ৫ বছর পূর্বে ইনানী সী পার্ল স্পা এন্ড রিসোর্টে চাকুরি নেয়। চাকুরি নেয়ার কয়েক বছর ভালভাবে কাজকর্ম করে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে আস্থা অর্জন করে। এরপর লোভ সামলাতে না পেরে বেশী টাকা আয় করার উদ্দ্যেশে স্থানীয় কিছু ইয়াবাকারবারীর সাথে আতাত করে হোটেলের বাইরে এসে ইয়াবা সরবরাহ করে। এভাবে গত দুই বছর ধরে হোটেলে আসা অতিথি ও কক্সবাজার শহরে খুচরা ব্যবসার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছে। অথচ দিনে হোটেলে চাকরি করার সময় নিজেকে সাধু সেজে অফিস ছুটির পর রাতে ইয়াবাকারবার করে অবৈধ টাকা আয় করছে।
অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফের একটি ইয়াবাকারবারি সিন্ডিকেট বেশ কয়েক বছর ধরে সী পার্লের কস্ট কন্ট্রোলার রফিকুল ইসলামকে হাত করে কক্সবাজার শহরে ইয়াবা প্রবেশের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে। কারণ, ইনানীর প্রথম ফাইভ স্টার হোটেল সী পার্লের কর্মচারিদের যাতায়াতের বাসগুলো কোন চেকপোস্ট বা আইনশৃংখলা বাহিনী তল্লাশী না করায় ইয়াবা বহনে রফিকুল ইসলাম পারদর্শী ভূমিকা পালন করছে। ফলে টেকনাফের ওই ইয়াবা সিন্ডিকেট বর্তমান সময়ে তাকে নিরাপদ মাধ্যম হিসাবে বেচে নিয়েছে। প্রথমে হোটেলের বাইরে এসে অতিথিদের খুচরা ইয়াবা সরবরাহ পরে বাসা কক্সবাজার শহরে হওয়ায় কর্মকর্তা/কর্মচারিদের বাসগুলো ব্যবহার করে ইয়াবা সরবরাহ করে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে সে। ইতিমধ্যে কস্ট কন্ট্রোলার রফিকুল ইসলাম সী পার্ল হোটেলের ‘জিএম’ থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করছে। এতে করে তার অবৈধ ইয়াবাকারবার যাতে নিরাপদ হয়।
এসব বিষয়ে জানতে সী পার্ল হোটেলের কস্ট কন্ট্রোলার রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোন ০১৮৪৪০১৬০৭৩ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান জানান- ‘শুধু রফিকুল ইসলাম নয়, অবৈধ মাদক বা কর্মকান্ডের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান ওসি।’
মন্তব্য করুন