
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অস্ত্র হাতে মহড়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে হেলাল আহমদ (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। হেলাল একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, থানা পুলিশের অভিযানে একই রাতে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দোয়ারাবাজার থানার এফআইআর নং-৪, জিআর নং-৭৮/২০২৬ (তারিখ: ২ এপ্রিল ২০২৬) এর এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি হোসেনুর রহমান ওরফে হোসেন মিয়া (২৮) এবং সাধারণ ডায়েরি নং-৮৫ (তারিখ: ৩ জুলাই ২০২৬) অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫ ধারায় হেলাল আহমদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি হেলাল আহমদ ও তার ভাই সুজন মিয়া নিজেদের ফেসবুক স্টোরিতে অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে ভারতীয় খাসিয়াদের সঙ্গে অস্ত্র হাতে মহড়া ও সেলফি তোলার আরও কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে জুমগাঁও-খাসিয়াবাড়ি এলাকার চার যুবককে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে বিজিবির সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়ন বিষয়টি দোয়ারাবাজার থানা পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেলাল আহমদকে আটক করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া যুবকেরা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের খাসিয়াদের সুপারি বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার ভাষ্য, শখের বশে খাসিয়াদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করার পর সেগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।
বিজিবির সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে অবহিত করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভিডিও ধারণের স্থান ভারতের অভ্যন্তরে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ভারতীয় খাসিয়াদের। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বিজিবি।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হেলাল আহমদকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার ভাই সুজন মিয়াই প্রথম এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাস্থল ভারতের অভ্যন্তরে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। ভিডিওতে থাকা অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন