
নিজস্ব প্রতিনিধি
“বাংলাদেশ আমার অহংকার”-এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, উগ্রবাদ দমন, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং দুর্র্ধষ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব এক অনন্য ও নির্ভরযোগ্য নাম। বিশেষ করে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ভূখণ্ডে জঘন্য অপরাধী চক্র, অপহরকারী ও মুক্তিপণবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আপসহীন। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে র্যাব তার পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে প্রতিনিয়ত। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের হাড় কাঁপানো গহীন অরণ্যে পরিচালিত হলো আরও একটি সফল এবং রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখ রাতে। ফেনী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা এলাকায় এসে হঠাৎ নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান বয়স ২৩ এবং তহিদুল ইসলাম তামিম বয়স ১৯ নামের দুই তরুণ। পরিবারের আকুল আবেদনে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি নং-১২২১ করা হয়। ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প-এর একটি চৌকস গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিখোঁজ তরুণরা কোনো সাধারণ নিখোঁজ নন, বরং তারা টেকনাফের একটি কুখ্যাত পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের জালে বন্দি।
আজ ৩০ জুন ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর ২:৩০ ঘটিকায় গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের পর র্যাব-১৫, সিপিসি-১ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ একযোগে টেকনাফের হ্নীলা ইউপির ০৭ নং ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ে প্রবেশ করে। চারপাশ থেকে পাহাড় ঘেরাও করে যখন যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে, তখন অপরাধীরা মরণপণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও এলিট ফোর্সের রণকৌশলের সামনে টিকতে না পেরে জঙ্গল ও খাড়া পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪ জন ভিকটিমকে।
উদ্ধারকৃতরা হলেন এমাম হোসেন জিসান বয়স ২৩, পিতা- আব্দুল করিম, সাং- গনিপুর, থানা- দাগনভূঞা, জেলা- ফেনী। তহিদুল ইসলাম তামিম বয়স ১৯, পিতা- মোঃ সেলিম, সাং- পশ্চিম রামপুর, ফেনী পৌরসভা, জেলা- ফেনী। মোঃ এমাম হোসেন বয়স ১৮, পিতা- মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাং- গনিপুর, থানা- দাগনভূঞা, জেলা- ফেনী। সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন বয়স ২২, পিতা- জজ মিয়া, সাং- নোয়াঐ, থানা- বাহুবল, জেলা- হবিগঞ্জ।
উদ্ধারের পর ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপহরণকারী চক্রটি তাদের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল। এরপর পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমদের ওপর চালানো হতো মধ্যযুগীয় বর্বর শারীরিক নির্যাতন। উদ্ধার না হলে যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের উদ্ধার পরবর্তী প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস অপহরণ চক্রের মূল হোতা এবং তার সহযোগীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে র্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন