
বান্দরবান সদর উপজেলার বান্দরবান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন রয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো মুসলিম বা হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক। ফলে ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা।সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ অনুমোদিত ৯ জন ও সংযুক্তিতে ৫ জনসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। বিদ্যালয়ে মুসলিম ও হিন্দু শিক্ষার্থী থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ধর্মের কোনো শিক্ষক নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থী জানায়, ইসলাম ধর্ম শিক্ষার ক্লাস নিয়মিত হয় না। মাঝেমধ্যে মারমা সম্প্রদায়ের শিক্ষকরা তাদের ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাস নেন। অনেক সময় নিজেদের উদ্যোগে বই পড়ে কিংবা বাড়িতে পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়।
ধর্মীয় শিক্ষক না থাকায় বিভিন্ন বিষয় বুঝতে তাদের অসুবিধা হয়। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিংম্যায়ী বলেন, “মুসলিম শিক্ষক দেওয়ার জন্য অভিভাবকরা জেলা পরিষদে আবেদন করেছেন। তবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি। নতুন জেলা পরিষদ গঠন হয়েছে। আমরা বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানাব।”স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ও হিন্দু শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখানে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মের কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পরিণয় চাকমা বলেন, “এ বিষয়ে আমি আগে অবগত ছিলাম না। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আজ বিষয়টি জানতে পেরেছি। আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ধর্মের শিক্ষক নিয়োগ বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন