
বান্দরবানের আলীকদমের ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়ন সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে ডিজিটাল ও মৌলিক সেবায় অনগ্রসর হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট এবং স্থায়ী বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইন সরকারি সেবা, স্বাস্থ্যপরামর্শ ও ডিজিটাল শিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত।
ইউনিয়নে স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও ডিজিটাল সেন্টারের অনুপস্থিতিও জনগণদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাসিন্দা মেসা ম্রো ও অর্জন ত্রিপুরা জানান, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ করা কঠিন। অনলাইনে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমের জন্য বাইরে আলীকদম সদর পর্যন্ত যেতে হয়; দুর্বৃত্ত পথ ও ৭০–৮০ কিলোমিটার দূরত্ব ভ্রমণ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জগৎ চন্দ্র ত্রিপুরা ও কাম্পুক ম্রো বলেন, স্থায়ী প্রশাসনিক অবকাঠামো না থাকায় স্থানীয়দের সেবা নেবার সময়ে সমস্যা বাড়ে। কুরুকপাতায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের অভাবে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা যাচ্ছে না।
শিক্ষাক্ষেত্রেও সমস্যা লক্ষ্যণীয়; এলাকায় কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রাথমিক শেষ করে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা চালাতে পারে না। কুরুকপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু শামা বলেন, দূরে পাঠাতে অনেকে পারেন না, ফলে পড়াশোনা ত্যাগ করছে অনেকে। ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইন ক্লাস ও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রীও হাতে পড়ে না।
স্বাস্থ্যের সেবাতেও প্রভাব পড়ছে; জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ দ্রুত পাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় গুরুতর রোগীকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সরকারি সেবা থেকে তাদের পিছিয়ে রাখা উচিত না তারা দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন।চেয়াম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, বর্তমানে আলীকদম সদর থেকে ভাড়া করা একটি কক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে; নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় প্রশাসনিক কাজ ও সেবা প্রদানে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, স্থায়ী বিদ্যুৎ, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেন্টার ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন