
সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য বার্তা ছড়িয়ে সফলভাবে শেষ হলো সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬। রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে জামছড়ি ইউনিয়ন একতা স্পোর্টিং ক্লাবকে ৪–১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কিংস অব বনরুপা।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
শুরু থেকেই দুদলের খেলোয়াড়েরা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত দাপুটে প্রদর্শনী ও বড় গোলের ব্যবধান গড়ে তুলে শিরোপা নিশ্চিত করে কিংস অব বনরুপা। নির্ধারিত লড়াই শেষে রানার্সআপ ট্রফি সন্তুষ্ট থাকতে হয় জামছড়ি ইউনিয়ন একতা স্পোর্টিং ক্লাবকে। খেলা শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি আজহারুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি সাব-জোন কমান্ডার মেজর রাফিউর রহমান রাজীব, এসইউপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রেজাউল করিম, জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তুষার এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু।
টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত ও দলীয় ক্যাটাগরিতে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনকারী খেলোয়াড়দের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়:
ম্যান অব দ্য ফাইনাল: জাফর ইকবাল (কিংস অব বনরুপা)
সেরা খেলোয়াড়: জাফর ইকবাল (কিংস অব বনরুপা)
সেরা গোলরক্ষক: সৈকত (কিংস অব বনরুপা)
সেরা গোলদাতা: মং শৈ (৫ নম্বর ওয়ার্ড)
সুশৃঙ্খল দল: শ্যারণপাড়া ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব
গত ২১ আগস্ট বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুমায়ুন রশীদ এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। টানা ১০ দিনের এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের একাধিক দল স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বান্দরবানের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী করে তোলা ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও বিভিন্ন এলাকার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা পাহাড়ের যুবসমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন