
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।
পাহাড়ি কন্যা ও অপরুপ সৌন্দর্যের জেলা বান্দরবানের সড়কপথে যাত্রী সেবার নামে চলছে চরম নৈরাজ্য। দীর্ঘ ৪০ বছরের পুরনো, জরাজীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পূরবী-পূর্বাণী বাস সার্ভিস। এর ওপর শহরের প্রবেশমুখে নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন কাউন্টার স্থাপন করায় তীব্র যানজটের কবলে পড়ছে পর্যটন শহরটি। সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হওয়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
পাহাড়ী আঁকাবাঁকা পথে যাত্রী নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পূরবী ও পূর্বাণী পরিবহনের এই লক্কর-ঝক্কর বাসগুলো। চার দশকের পুরনো এসব গাড়ির না আছে বসার সুব্যবস্থা, না আছে যান্ত্রিক সক্ষমতা। তবুও একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে এসব ফিটনেসবিহীন গাড়িতেই উঠতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
স্থানীয় যাত্রী ও বাসিন্দারা বলেন,
“গাড়িগুলোর ভেতরে বসার পরিবেশ নেই, একটু পর পর নষ্ট হয়ে যায়। আমরা জানের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছি, অথচ দেখার কেউ নেই।”
অভিযোগ রয়েছে, বাস স্টেশনে দুটি কাউন্টার থাকার পরেও নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে পাহাড়ীকা পেট্রোল পাম্পের সামনে খোলা হয়েছে নতুন আরেকটি কাউন্টার। শহরের প্রবেশমুখেই বাস থামিয়ে যাত্রী তোলায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট এক সচেতন নাগরিক বলেন,
“শহরের মুখে এভাবে কাউন্টার বসানো মানেই যানজটকে আমন্ত্রণ জানানো। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।”
পরিবহন সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অসহায় হয়ে পড়লেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। বান্দরবানবাসীকে এই দুঃসহ যানজট ও ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের কঠোর তদারকি এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন