
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাগলীর আগায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ ঋষি আশ্রমে মহাধুমধামে পালিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব। পহেলা অক্টোবর (বুধবার) নানা আয়োজন, পূজা-অর্চনা, ভক্ত-সমাগম ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আশ্রম প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলীয় এ পূজা-অর্চনার আচার সম্পাদন করেন আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রী শ্রীমৎ জগন্নাথানন্দ পুরী গুরু মহারাজ। তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মানবজাতির মঙ্গল, বিশ্বশান্তি ও সহমর্মিতাই আমাদের ধর্মীয় উৎসবের মূল শিক্ষা।” এ সময় তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা প্রেরণ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দুর্গোৎসব পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রীমৎ সত্য চৈতন্য ব্রহ্মচারী (স্বপন)। তিনি পূজা অর্চনা, অতিথি আপ্যায়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দিনভর ব্যস্ত ছিলেন। তার ভাষায়, “শ্রী শ্রী জগন্নাথ ঋষি আশ্রম সকল জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এখানে মানবসেবাই ধর্ম চর্চার মূল উদ্দেশ্য।”
উৎসব উপলক্ষে লামা থানা পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের তৎপরতায় পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। ফাঁসিয়াখালী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ভক্ত আশ্রমের অতিথিশালায় এসে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের উপস্থিতিতে আশ্রম প্রাঙ্গণ যেন মিলনমেলায় রূপ নেয়।
শুধু পাগলীর আগার জগন্নাথ ঋষি আশ্রমেই নয়, পুরো লামা উপজেলা জুড়েই চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। এবার উপজেলায় মোট আটটি পূজা মণ্ডপে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপেই ভক্তদের অংশগ্রহণ ও আনুষ্ঠানিকতায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
শ্রী শ্রী জগন্নাথ ঋষি আশ্রমের অধ্যক্ষ গুরু মহারাজ ও পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সত্য চৈতন্য ব্রহ্মচারী স্বপনের অভিন্ন আহ্বান— “দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানবিকতার উৎসব। এখানে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।”
এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে লামা উপজেলার জনপদজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও ভক্তিময়।
মন্তব্য করুন