
বান্দরবান সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলনের সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিসিবি ডিলার ও ওএম এম ডিলাররা তারা জানায় টাকা বা ঘুষ দিলে ভালো মানের চাল দেওয়া হয়। আর না দিলে দেওয়া হচ্ছে পচা বা নিম্নমানের চাল ফলে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন খাদ্য গুদমের অত্যাচারে আমরা খুবই অতিষ্ঠ যে কর্মকর্তারা আছেন তাদেরকে টাকা দিলেই ভালো মানের চাউল দেওয়া হয় না দিলেই আমাদের দুর্গন্ধযুক্ত পচা চাউল নিতে হয়।
বান্দরবান বাসী সহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে খাদ্য গুদামের পচা চাউলের এই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে বান্দরবান সাংবাদিক মহলে চোখে পড়ে। তখন এবিএন বাংলা টিভির অনুসন্ধানে যান বান্দরবান শহরে খাদ্য গুদাম অফিসে তৎক্ষণিক গিয়ে দেখেন ভালো চাউল গুলো এক গুদামে রাখেন আর পচা চাউল গুলো অন্য গুদামে রাখেন। খাদ্য গুদাম এর ওসি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না তখন ওসি মোরশেদুল করিমকে ফোন করলে তিনি বলেন যারা আমাদেরকে অভিযোগ করেছে তাদেরকে আমরা চাল পাল্টিয়ে দিয়েছি এটি সত্যতা যাচাই করতে আমরা তৎক্ষণিক আরেক প্রদিপ নামের কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করি তিনি বলেন সিরাজ খলিফা ওএমএস ডিলার কে আমরা চাউল পাল্টিয়ে দিয়েছি তখন এবিএন বাংলা টিম সাথে সাথে সিরাজ খলিফাকে ফোন করে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি কোন চাল পাল্টিয়ে আনিনি।
ওএমএস ডিলার মো আলীকে ফোন করলে তিনি বলেন এবারের যে নিম্নমানের বা পচা চাউল দিয়েছেন সাধারণ জনগন খাওয়ার উপযোগী নয়।
ওএমএস ডিলার দের কাছ থেকে চাউল নিতে আসা সাধারন জনগন বলেন
আমরা যে চাউল গত সপ্তাহে নিয়েছি তা হাঁস মুরগি পর্যন্ত খেতে চাচ্ছে না।
ওএমএস ডিলার দের কাছ থেকে চাউল নিতে আসা মুন্সি মিয়া বলেন এবারের চাউল গুলো এত বাজে পোকা দুর্গন্ধ তারপরও আমরা গরীব মানুষ এজন্য কি আর করব।
আরেক ডিলার কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদেরকে সাধারণ জনগণ বারবার অভিযোগ করেছেন আমরা অফিসে যোগাযোগ করলে আমাদেরকে বলেন এবারের চাউল গুলো চালিয়ে ফেলেন আগামীবার থেকে ভালো চাল দেব বলেন খাদ্য গুদামে কর্মকর্তারা বলেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদুল আলম কে ফোনে করলে তিনি বলেন পচা চাউল এর বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা বলেন এবিএন বাংলা টিভির টিমকে তিনি আরো বলেন আপনি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।
এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। কারন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ডিলার দের বলেন আপনাদেরকে যে চাউলদি তাই বিক্রি করবেন না হয় আপনাদের ডিলার বাতিল করে দেবো সে ভয়ে কেউ কথা বলে না। ওএমএস ও টিসিবি ডিলার এর একটাই দাবি ভালো চাউল যেন পায়। তাই বান্দরবান জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন । ভুক্তভোগীদের দাবি, খাদ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের জরুরি তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন