
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ৭নং সরল ইউনিয়ন পরিষদে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদকে পুনরায় বদলীর আদেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অনাস্থা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুনুর রশিদ ২০১০ সাল থেকে সরল ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা প্রদানের নামে উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাৎ, ইজিপিপি কর্মসূচির শ্রমিকদের মজুরি আত্মসাৎ এবং ভিজিডি/ভিজিএফ সুবিধাভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ইউপি সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সরল ইউনিয়ন থেকে পাশ্ববর্তী কাথারিয়া ইউনিয়নে বদলি করা হয়। তবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে পুনরায় সরল ইউনিয়নে বদলীর আদেশ দেওয়া হলে বিষয়টি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র বাবদ আদায়কৃত প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে।
এমতাবস্থায় ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে পুনরায় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরল ইউনিয়নে বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রেখে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
মন্তব্য করুন