
বান্দরবানের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক ও সর্বজনপ্রিয় নেতা প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা কাকার সাপ্তাহিক পূণ্যানুষ্ঠান গভীর আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে তাঁর স্মৃতিচারণ করেন তাঁর বাল্যবন্ধু, বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন কমিটির বান্দরবান চ্যাপ্টারের সভাপতি এবং বম সোস্যাল কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই, বান্দরবান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত অনারারি ক্যাপ্টেন এবিএম আবুল কাশেম বীর প্রতীক, বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও রিজিয়ন কমান্ডারের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএডিসি”র উপসহকারী পরিচালক নাজিব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সম্মানিত সদস্য শ্রী কে এস মং।
“আমার সাথে তাঁর পরিচয় ১৯৯০ সাল থেকে। প্রথমে তিনি আমার রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন কাকা, আর কাকা থেকে ধর্মপিতা। প্রায় ৩৪ বছরের সম্পর্ক আমাদের। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, স্নেহ আর প্রেরণা চিরকাল বেঁচে থাকবে।”
প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার প্রয়াণে বান্দরবানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন শোকাভিভূত হয়ে পড়ে। সর্বস্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানায় তাঁকে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রেইচা সাতকমল পাড়ার পারিবারিক শ্মশানে হাজারো ভক্ত-অনুসারীর উপস্থিতিতে তাঁর দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা কাকা গত ২৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ৭৪ বছর বয়সে হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
যৌবনে তিনি পাহাড়িদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যোগ দেন এবং “মেজর দুর্জয়” নামে পরিচিত হন। ১৯৮৫ সালে শান্তিবাহিনী থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৮৯ সালে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বান্দরবান স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ নিজ বাড়ির সামনে আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে থামাতে পারেনি। হুইলচেয়ারে বসেই ১৯৯৮ সালে তিনি বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং টানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনে সরব ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা কাকার জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি রাজনীতি, সমাজ ও ধর্মীয় অঙ্গনে যে অবদান রেখে গেছেন, তা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
@highlights
@followers
মন্তব্য করুন