
পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে এখন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের সুর। আমতলী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া যুব উন্নয়ন সমাজের উদ্যোগে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক আমতলী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় বসেছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য ‘ঘিলা খেলা’র আসর। বন থেকে সংগৃহীত বড় আকৃতির লতা বা বীজের ঘিলা দিয়ে নিপুণ নিশানায় লক্ষ্যভেদ করার এই লড়াই মূলত বীরত্ব ও ধৈর্যের এক পরীক্ষা।
এ সময় আমতলী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া যুব উন্নয়ন সমাজের সহ সাধারণ সম্পাদক: রিতন তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ইউপি সদস্য ও আমতলী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া যুব উন্নয়ন সমাজের মোতায়েন বাবু বাদি কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি কর্মকর্তা বাবু বিভীষণ তঞ্চঙ্গ্যা, বিষক্ষ কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, কান্দরা তঞ্চঙ্গ্যা, এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন, আমতলী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার পাড়া প্রধান (কারবারি): বাবু মানন্ত তঞ্চঙ্গ্যা সহ পাড়াবাসী ও দুর দূরান্ত থেকে আগত অসংখ্য দর্শক উপস্থিতি ছিলেন।
কেবল বিনোদন নয়, তঞ্চঙ্গ্যা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই ঘিলা খেলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ করছেন সর্বমোট ১২টি দল। যেখানে মাঠের লড়াইয়ে মেতেছেন তরুণ থেকে প্রবীণ—সবাই।
আয়োজক কমিটি জানায়:
“ঘিলা খেলা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য। আমরা চাই এই খেলা যেন বিলুপ্ত না হয়। তরুণরা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে, তাতে আমরা অনেক আনন্দিত।”
খেলাকে কেন্দ্র করে সুয়ালক আমতলী তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার এলাকা পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়। আয়োজকরা বলছেন, আধুনিক গেমসের ভিড়ে নিজেদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতেই এই জাতীয় ঘিলা খেলার আয়োজন। ঐতিহ্য সংরক্ষণের এই প্রচেষ্টা পাহাড়ের মানুষের মধ্যে সঞ্চার করেছে নতুন উদ্দীপনা।
একজন খেলোয়াড় বলেন:
“এটি আমাদের নিজস্ব খেলা। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে গর্ব বোধ করছি। আমরা চাই সরকারিভাবে এই খেলার আরও প্রসার ঘটুক।”
হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার এই লড়াই চলবে আগামী কয়েকদিন। আর এই উৎসবের মধ্য দিয়েই সুদৃঢ় হবে পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন