
নির্বিচারে পাহাড় কাটার অপরাধে নগরীর খুলশীতে ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শনিবার (১২ই এপ্রিল) সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমান বাদী হয়ে ১১জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।একই সঙ্গে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন, পশ্চিম খুলশী জালালাবাদ এলাকার মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে মো. মুন্না প্রকাশ বিহারী মুন্না(৫০), ২/মেরি(৩৫),৩/সাহাবুদ্দিন(৪০),৪/ড্রাইভার রাজ্জাক(২৬),৫/মো. মিজানুর রহমান ৪৫,৬/রিপন ৩৫,৭/হারুন প্রকাশ পোয়া হারুন(৩৭),৮/আরিফ৩৭),৯/মো.লালন(৪০),১০/কামাল প্রকাশ কাচি কামাল (৪০),১১/নুর হোসেন ৩৫।
চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করে পাহাড় কেটে সাবার করে এবং রাতের আঁধারে পাহাড় কাটা মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি নগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ এলাকায় পাহাড় কাটার অপরাধে ১১ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত নামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে মামলা দায়ের করার পরও ৬ দিন পার হলেও ড্রাইভার রাজ্জাক ছাড়া অন্য কোন আসামিরা গ্রেফতার হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম খুলশী জানালাবাদ নিকটস্থ কৃষ্ণচূড়া হাউজিং সোসাইটির শৈল্পিক বিল্ডিং এর সামনের পাহাড় হইতে উত্তর-পাহাড়তলী মৌজার বিএস ৫৯ নং দাগের দৃশ্যমান টিলা কর্তনের আসামিরা শনিবার ১২ই এপ্রিল গভীর রাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি অপসারণ করছিল এবং পাহার কাটার প্রমাণও পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, মূলত রাতের আঁধারে এস্কেবেটার দিয়ে এসব পাহাড় কাটা পড়ে। তবে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জালালাবাদের এই পাহাড়টি কাটার সাথে জহিরুল ইসলাম বাবলু ও মনির নামের দুজনের নাম উঠে আসে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলার এজাহারে তাদেরকে আসামি করা হয়নি।
মামলার আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা বলেন, পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর বাদী হয়ে ১২ই খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। তিনি আরো বলেন, আসামি গ্রেফতারের দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরে নয়। আসামি ধরার দায়িত্ব থানা পুলিশের। তবে থানা পুলিশ আমাদের সহযোগিতা চাইলে, অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তর আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে সহযোগিতা করবে।
মন্তব্য করুন