ABN BANGLA TV
১৫ জুন ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

“নিয়াম নীতির তোয়াক্কা নেই চেমী রেঞ্জে; কর্মকর্তা ছানাউল্লাহর গ্রিন সিগন্যালে চলছে বন উজাড়ের মহোৎসব”।

নিয়াম নীতির তোয়াক্কা নেই চেমী রেঞ্জে; কর্মকর্তা ছানাউল্লাহর গ্রিন সিগন্যালে চলছে বন উজাড়ের মহোৎসব।

বান্দরবান প্রতিনিধি:

সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে চলে গেছে দিগন্তজোড়া অরণ্য। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্য রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই যদি চলে ধ্বংসযজ্ঞ, তবে রক্ষকই তখন ভক্ষক। বান্দরবানের চেমী রেঞ্জে এখন ঠিক এই চিত্রই বাস্তব। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-দুপুরে চলছে সরকারি বনের গাছ কাটার মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের খোদ এক কর্মকর্তার অলিখিত গ্রিন সিগন্যালেই উজাড় হচ্ছে গহিন এই অরণ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চেমী রেঞ্জের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে মূল্যবান সেগুন, গর্জনসহ নানা প্রজাতির প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা গাছ। সংরক্ষিত বনের এসব কাঠ পাচারের জন্য তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। আর এই পুরো চক্রের সুতো যার ইশারায় নড়ছে, তিনি আর কেউ নন—চেমী রেঞ্জের কর্মকর্তা ছানাউল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের মাসোহারা আর গোপন সমঝোতার বিনিময়ে কাঠ চোরাকারবারিদের অভয় অরণ্য বানিয়ে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এমনকি ডলুপাড়া, চেমীরমূখ, গোয়ালিয়াখোলা, স্বর্ণমন্দির, কুহালং, ডাক-বাংলা, রাজবিলা এসব জায়গায় প্রতিনিয়ত অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে মৌখিক ইশারায় গ্রিন সিগন্যালে চলছে বন উজাড়ের মহোৎসব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান:

আমরা চোখের সামনে দেখি প্রতিদিন বড় বড় গাছ কেটে বন উজাড়ের মহোৎসব চলছে। কিছু বলতে গেলে বিপরীতে মামলার ভয় দেখানো হয়। রেঞ্জ অফিসার ছানাউল্লাহ সাহেব সব জানেন, উনার লোকজনেই এসব তদারকি করে লাইন ক্লিয়ার করে দেয়। টাকা দিলে সব বৈধ, না দিলে অবৈধ।

পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় যেখানে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে চেমী রেঞ্জে তা কেবলই কাগজে-কলমে। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এভাবে ন্যাড়া হতে থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী। অথচ, রহস্যজনক কারণে নীরব স্থানীয় বন প্রশাসন।

পরিবেশবিদদের মতে:

বান্দরবান চেমী রেঞ্জের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেভাবে বন উজাড় হচ্ছে, তা পুরো বান্দরবানের পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। সরকারি কর্মকর্তা যদি নিজেই এই সিন্ডিকেটের অংশ হন, তবে বন রক্ষা করা অসম্ভব। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোন কথা বলতে চাইলে ফোন রিসিভ করেননি এবং ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি রেঞ্জ কর্মকর্তা ছানাউল্লাহ।

সবুজ পাহাড়কে মরুভূমি বানানোর এই আত্মঘাতী খেলা বন্ধ হবে কবে? ছানাউল্লাহদের মতো কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে চেমী রেঞ্জের অবশিষ্ট বনভূমি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করেন বান্দরবানবাসী।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবান বাসস্টেশন এলাকায় পুলিশি অভিযান: ১০ লিটার চোলাই মদসহ এক নারী আটক।

সাংস্কৃতিক বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নজরুল বর্ষ ২০২৬ -২০২৭ উদযাপন।

পাঁচবিবি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক।

ফেসবুকে অস্ত্রের মহড়ার ছবি-ভিডিও: দোয়ারাবাজারে যুবক আটক, তদন্তে পুলিশ-বিজিবি।

সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় নুর হোসেনকে প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কার।

রোয়াংছড়িতে থানা পুলিশের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।

নিজ অর্থায়নে শাহ্ মজিদিয়া রাস্তা সংস্কার করলেন সমাজসেবক এনামুল হক এনাম।

অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন, ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।

বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধে সবুজ বনায়নের পরিকল্পনায় স্থান পরিদর্শন ইউএনওর।

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে রোয়াংছড়ি উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ।

১০

চট্টগ্রামে নতুন ‘হালদা থানা’ অনুমোদন, বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলার পরিধি।

১১

শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

১২

বাঁশখালীতে ভূমি বিরোধ: সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।

১৩

বাঁশখালীতে ভূমি বিরোধ: সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।

১৪

দোয়ারাবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দ্বিতীয় কিস্তির চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ।

১৫

আলীগ্রামকে বুড়িগঞ্জে রাখার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ এলাকাবাসী।

১৬

দোয়ারাবাজারে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত।

১৭

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার।

১৮

বিধি ভেঙে বন্দরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত’ বিদায় অনুষ্ঠান ​সেবা না পেয়ে ক্ষোভ; বিদায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

১৯

বান্দরবান সদর পৌরসভা, ৩নং ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আন্দোলন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি।

২০