
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংস্কারসহ ৪ দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ৩৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রুহিয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। উপস্থিত ছিলেন কেবল ডিজিএম (চলতি দায়িত্ব) প্রকৌশলী গগন সাহা, এজিএম এইচ এ মাহমুদুল হাসান মামুন, একজন গাড়িচালক এবং দুইজন পিয়ন। এদিকে, হঠাৎ করে এ ধরনের কর্মবিরতির ঘটনায় রুহিয়াসহ আশেপাশের এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। গ্রাহকসেবা বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংক্রান্ত সমস্যা এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিভাবে একযোগে ৩৭ জনের ছুটি মঞ্জুর করলেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী গগন সাহা বলেন, “আমার অধীনে মোট ৫১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জন কর্মবিরতিতে রয়েছেন, ২ জন ট্রেনিংয়ে, মোট ৩৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারী অনুপস্থিত। বাকিরা অন্যান্য ইউনিটে ডিউটিতে আছেন।” তবে একসঙ্গে এতজনের ছুটি মঞ্জুর প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্মবিরতিতে থাকা কর্মকর্তারা জানান, তারা ৪ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। দাবিগুলো হলো: ১. চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ, মামলা প্রত্যাহার, অযথা বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত বাতিল এবং দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ। ২. ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জারিকৃত হয়রানিমূলক আদেশ বাতিল করে কর্মস্থলে পুনর্বহাল। ৩. শহীদ মিনার ও জরুরি সেবায় নিযুক্ত ৫ জন লাইনক্রুকে পুরনো কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা। ৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ। এই আন্দোলন ঘিরে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। গ্রাহকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং
মন্তব্য করুন