
সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় জমি এরিয়া নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক ও বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ১নং রুহিয়া ও ২০নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ পরিদর্শন করেন ১নং রুহিয়া ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ হাসান আলী, রুহিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক মানিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজুল হক, ২০নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর রহমান শপথ, রুহিয়া থানা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে ১০ বিঘা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ০৮ বিঘা জমির ওপর এই খেলার মাঠ নির্মিত হবে। মাঠ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কৃষি জমি নষ্ট না করার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। জনবসতি ও ইউনিয়ন পরিষদের নিকটবর্তী স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ভূমি জরিপ সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মাঠগুলো শুধু খেলার জন্যই নয়, বরং সব বয়সী মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পিলার ও কাঁটাতারের মাধ্যমে মাঠের সীমানা প্রাচীর নিশ্চিত করা। বয়োজ্যেষ্ঠ ও সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য মাঠের চারপাশে বিশেষ ওয়াক-ওয়ে নির্মাণ। মাঠের চারধারে নিমগাছসহ বিভিন্ন বনজ ও ফলজ বৃক্ষ রোপণ। শিশুদের বিনোদনের জন্য মাঠের একপাশে আলাদা ‘সেফ জোন’ বা শিশু পার্কের ব্যবস্থা রাখা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)র সমন্বয়ে এই স্থান নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রুহিয়াকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য রয়েছে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন তার পথ আরও প্রশস্ত করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে খেলাধুলার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই প্রকল্প মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন