
ঠাকুরগঁও জেলায় নয় মাসের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন সাবেক সংসদ সদস্য। তারা (নিষিদ্ধ সংগঠন) আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও শীর্ষ নেতা। গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে তারা মারা যান।
আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই তিন নেতা হলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক এমপি ইমদাদুল হক।
তাদের মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক।
এর পাঁচ মাস পর চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক ৭ বারের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম।
রমেশ চন্দ্র সেন ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা। ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রমেশ চন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতা-পূর্ব সময় থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই নেতা কেন্দ্রীয়ভাবে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাচনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া স্থানীয় নানা উন্নয়নে তার অবদান রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে দবিরুল ইসলামের। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মাধ্যমে।
তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে সিপিবি থেকে ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। একই বছর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সবশেষ ২০১৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দবিরুল। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দবিরুলের পরিবর্তে তার ছেলে মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হকও ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
স্থানীয় রাজনীতিতে সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এলাকায় তার শক্ত অবস্থান ছিল। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
মন্তব্য করুন