ABN BANGLA TV
২০ মার্চ ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

“একজন প্রশাসক দিয়ে লক্ষ লক্ষ জনতার নাগরিক সহ মৌলিক সেবা দেওয়া কি সম্ভব ?”।

একজন প্রশাসক দিয়ে লক্ষ লক্ষ জনতার নাগরিক সহ মৌলিক সেবা দেওয়া কি সম্ভব ?।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী:

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে প্রশাসক নিয়োগের প্রবণতা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, এখন উপজেলা পরিষদ—ক্রমে যদি ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানেও একই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম ভিত্তি “নির্বাচন” তার স্বাভাবিক গুরুত্ব হারাতে পারে।

 

নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের জনগণের অংশগ্রহণমূলক অধিকার ও শাসনব্যবস্থার বৈধতার প্রধান উৎস। অথচ যদি প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়, তবে প্রশ্ন উঠতে পারে—তাহলে কি আমরা ধীরে ধীরে নির্বাচনী কাঠামো থেকে সরে যাচ্ছি? জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশ এবং প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কি সীমিত হয়ে পড়বে?

 

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্বাচন আয়োজনের যৌক্তিকতাও তখন আলোচনার কেন্দ্রে আসবে। যদি প্রশাসনিক নিয়োগই কার্যকর বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হবে।

 

এমন বাস্তবতায় অনেকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রশ্ন তুলছেন—যখন একটি নির্দিষ্ট সময় বা নেতৃত্বের অধীনে “সর্বোত্তম ভোট” সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তখন ভবিষ্যতে আর নির্বাচনের প্রয়োজন কী? এই ধরনের বক্তব্য আসলে রাজনৈতিক হতাশা, অনাস্থা এবং ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার প্রতিফলন।

 

সবশেষে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে। কারণ, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের মূলভিত্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা—আর সেই আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

 

বিবিসি বাংলা ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনে ও রিপোর্টেও একই ধরনের মন্তব্য প্রতীয়মান হচ্ছে।

সিটি ও জেলা পরিষদ কি দলিয় নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হলো

বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের পর ৪২টি জেলা পরিষদেও দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের উল্লসিত করলেও প্রশ্ন উঠছে যে, স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান দলিয় নেতাদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পরিণত হল কি-না।

 

সরকার ইতোমধ্যেই দেশের সব সিটি কর্পোরেশন থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দলিয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এসব নেতাদের কেউ কেউ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়েও হেরে গেছেন কিংবা আবার কেউ কেউ তখন দলীয় মনোনয়ন পাননি।

 

সর্বশেষ রোববার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদের দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন প্রশাসক নিয়োগের ফলে জেলা পরিষদসমূহের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

 

যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কর্মদিবসেই এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের কথা বলেছিলেন।

 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ এবং প্রায় ৪ হাজার ৫৭০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

 

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা মেয়রদের অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

সংসদ নির্বাচনের পর মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি এবং এর এক সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দলীয় নেতাদের নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়।

এখন সচেতম মহলের প্রশ্ন সরকারকি গণতন্ত্রকে হত্যা করে দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন করে চলেছেন ?

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত স্থানীয় সরকার কমিশন তাদের রিপোর্টে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দলীয় নির্বাচন ও সরাসরি নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছিল। এজন্য তারা বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাবও করেছিল।

ওই কমিশনের একজন সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, কমিশনের রিপোর্টে তারা দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা বলেছিলেন।

“কমিশনের সুপারিশের স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করতে বলা হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল দলীয় রাজনীতির প্রভাব কমিয়ে জনগণের অংশীদারিত্ব বাড়ানো। পাশাপাশি সংসদীয় পদ্ধতির আদলে নির্বাচিত সদস্যরা তাদের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করুক- এমন সুপারিশ করা হয়েছিল,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

তখন সরকারের দিক থেকে কয়েকটি অধ্যাদেশও জারি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নিয়ে, যা সরকারের পক্ষে আইনমন্ত্রী সংসদে উপস্থাপন করেছে অধিবেশনের প্রথম দিনেই।

অনেকের ধারণা ছিল সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার এসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জোরালো পদক্ষেপ নিবে। এখন দলীয় নেতাদের প্রশাসক করায় নির্বাচন সহসাই হচ্ছে কি-না সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

কর্পোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ হলেও কাউন্সিলর না থাকায় জনসেবা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মূলত নির্বাচন না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আবার যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের কেউ কেউ গত সংসদ নির্বাচনে দলিয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে হেরে গেছেন আবার কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

ফলে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কাউকে ‘সান্ত্বনা’ আবার কাউকে ‘পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে- এমন আলোচনাও আছে রাজনৈতিক অঙ্গন গ্রামের চায়ের দোকান গুলোতে।

আবার এমনও মন্তব্য করাহচ্ছে লক্ষ লক্ষ জনতার গুরুত্ব পূর্ন সেবা একজন ব্যক্তির দেওয়া কি সম্ভব ?

ইন্সটিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) প্রশাসক দিয়ে নগরের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে দ্রুত সিটি করপোরেশন উপজেলা পরিসদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ও নগর বিশেষজ্ঞ আদিল মুহাম্মদ খান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “সরকারের উচিত ছিল নির্বাচন আয়োজনে অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু সেটি না করে যা করা হয়েছে সেটি হলো- দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন। নির্বাচনের উদ্যোগ না নিয়ে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ ভালো ইঙ্গিত দেয় না”।

এসব প্রশাসকরা পরে নির্বাচন হলেও তাতেও প্রভাব বিস্তার করবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে মি. খান বলেন, “প্রশাসক নিয়োগটা হলো একটা কুপ্রথা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কার্যকর থাকে না এবং এগুলো তখন আর জনগণের কাছে দায়বদ্ধও থাকে না। ফলে জনগণ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

সিটি কর্পোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের পর এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল সংসদের বিরোধী দল ও জোট।

বিরোধী দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তখন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, দলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন সুশাসন ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিকৃত। তাই আমরা আশা করবো তাঁর সুযোগ্য সন্তানের নেতৃত্বে নতুন গঠিত সরকার দ্রুত স্থানীয় সরকার এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিবেন। এটসই তৃনমুলের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা গণতন্ত্র অক্ষত রেখে দেশের তৃনমুলের জনসেবা গুরুত্ব পূর্ন সেবা সমুহ চালু রাখা।জয়তুন বাংলার ১৮ কোটি জনতার।

 

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী

মহাসচিব

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম

জাতির কমিটি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবান বাসস্টেশন এলাকায় পুলিশি অভিযান: ১০ লিটার চোলাই মদসহ এক নারী আটক।

সাংস্কৃতিক বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নজরুল বর্ষ ২০২৬ -২০২৭ উদযাপন।

পাঁচবিবি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক।

ফেসবুকে অস্ত্রের মহড়ার ছবি-ভিডিও: দোয়ারাবাজারে যুবক আটক, তদন্তে পুলিশ-বিজিবি।

সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় নুর হোসেনকে প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কার।

রোয়াংছড়িতে থানা পুলিশের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।

নিজ অর্থায়নে শাহ্ মজিদিয়া রাস্তা সংস্কার করলেন সমাজসেবক এনামুল হক এনাম।

অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন, ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।

বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধে সবুজ বনায়নের পরিকল্পনায় স্থান পরিদর্শন ইউএনওর।

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে রোয়াংছড়ি উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ।

১০

চট্টগ্রামে নতুন ‘হালদা থানা’ অনুমোদন, বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলার পরিধি।

১১

শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

১২

বাঁশখালীতে ভূমি বিরোধ: সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।

১৩

বাঁশখালীতে ভূমি বিরোধ: সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।

১৪

দোয়ারাবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দ্বিতীয় কিস্তির চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ।

১৫

আলীগ্রামকে বুড়িগঞ্জে রাখার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ এলাকাবাসী।

১৬

দোয়ারাবাজারে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত।

১৭

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার।

১৮

বিধি ভেঙে বন্দরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত’ বিদায় অনুষ্ঠান ​সেবা না পেয়ে ক্ষোভ; বিদায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

১৯

বান্দরবান সদর পৌরসভা, ৩নং ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আন্দোলন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি।

২০