
আইভীর জামিন আবেদন খারিজ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আবেদন আদালতে নামঞ্জুর করা হয়েছে। সোমবার (১২ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানির পর বিচারক শামসুর রহমান এই আদেশ প্রদান করেন।
আইভীর পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা, যাদের মধ্যে এস এম সিদ্দিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, এবং অ্যাডভোকেট শাহিন মাহমুদসহ ৬-৭ জন আইনজীবী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হয়ে হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আদালতকে আমরা বলেছি আইভী স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ। তিনি টানা তিনবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং একবার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন।’
‘সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকটি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার কাছে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। আইভী একজন এক্সট্রা অর্ডিনারি পার্সন। তার গ্রেফতারে নারায়ণগঞ্জবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী তার গ্রেফতারকে মেনে নিতে পারছেন না। এই গ্রেফতারের কারণে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘কারাগারে যাতে আইভী ডিভিশন পান সেজন্য তারা আদালতে আবেদন করেছেন। আদালত তাদের আবেদন আমলে নিয়ে ডিভিশন প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিচারক আইভীর জামিনের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। তবে জামিনের জন্য আমরা অচিরেই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করবো।’
জানা যায়, গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গত ৯ মে ভোরে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তার কর্মী সমর্থক ও এলাকার শত শত নারী-পুরুষ গ্রেফতারের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
পরে ওইদিন সকালে আইভীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৬ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। সেদিনের পর থেকে আইভী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন