
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা আলী হায়দার পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
জানা যায়, আলী হায়দার ১৯৮৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে তিনি সাহসী ছাত্রনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ঢাকার মহাখালী এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বাম পায়ের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় তিন মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর নিজ অর্থ ব্যয়ে সুস্থ হয়ে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় তিনি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আলীকদম উপজেলা শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আলীকদম উপজেলা বিএনপির নির্বাচনে ১০৭ ভোটের মধ্যে ১০৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে তৎকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরোধিতার কারণে তাকে ওই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে জেলা বিএনপির একটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিলের দাবি এবং সাচিং প্রু জেরির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন দলীয় গ্রুপিং রাজনীতির শিকার হন। তবুও তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
আলীকদম উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে অবদানের কারণে সম্ভাব্য পার্বত্য জেলা পরিষদে আলী হায়দারকে সদস্য করা হলে এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
মন্তব্য করুন