
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরি নদীতে একদল অসাধু মৎস্যখেকো চক্র প্রকাশ্যে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করিয়া অবাধে মাছ শিকার করিতেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি দল নদীর বিভিন্ন স্থানে ঝাঁক দিয়া ঘেরাও পদ্ধতিতে মাছ ধরিয়া নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করিতেছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরিয়া এই চক্রটি নদীর বিস্তীর্ণ অংশ জাল দ্বারা ঘেরাও করিয়া ছোট-বড় সকল প্রজাতির মাছ নির্বিচারে আহরণ করিতেছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইতেছে এবং মৎস্যসম্পদ ক্রমশ হ্রাস পাইতেছে। এতে নদী নির্ভর জেলে সম্প্রদায়সহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হইবার আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্যমতে, এভাবে অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার চলিতে থাকিলে অদূর ভবিষ্যতে মাতামুহুরি নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হইবে। তাহারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করিয়াছেন।
মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নদীসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে ঘেরাও পদ্ধতিতে মাছ ধরা, নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করা এবং প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ আহরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রহিয়াছে।
৮ মার্চ রবিবার বিকালে লামা- আলীকদম উপজেলার দায়িত্বরত মৎস কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন লামা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড সাবেক বিলছড়ি এলাকায় পিসি মঈনুল হোসেনের বাড়ী সংলগ্ন মাতামুহুরি নদীতে অবৈধ ভাবে মাছ শিকার করা স্থান পরিদর্শন করেন। ঐসময় ঘটনাস্থলে একদল জলদস্যু ও মাছ ধরার সরঞ্জামাদি উপস্থিতি দেখতে পায় উক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দল। তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্হা নেয় হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
৬ মার্চ (শুক্রবার) লামা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক বিলছড়ি এলাকা সংলগ্ন মাতামুহুরি নদী হইতে ধারণকৃত তথ্যচিত্র ও ভিডিওচিত্রে অবৈধভাবে ঝাঁক দিয়া মাছ শিকারের দৃশ্য ধরা পড়িয়াছে বলিয়া জানা গিয়াছে।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করিলে , মাতামুহুরি নদীর মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে অবৈধভাবে মাছ শিকারকারী চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্তব্য করুন