ABN BANGLA TV
৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

“হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয়ের প্রাণপ্রিয় পাখি পানকৌড়ি”।

হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয়ের প্রাণপ্রিয় পাখি পানকৌড়ি।

নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওর—যেখানে জল আছে, সেখানে পানকৌড়ির বিচরণ। কিন্তু একসময় যা ছিল অতি পরিচিত দৃশ্য, আজ তা ক্রমেই কমে আসছে। দেশের জলাশয়ে পানকৌড়ির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং এই কারণে এই জলচর পাখিকে বাংলাদেশে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পানকৌড়ি (Phalacrocoracidae) বা ইংরেজিতে ‘Cormorant and Shag’ মূলত জলের সঙ্গে গভীর মিতালি রাখে। এরা দীর্ঘ সময় জলে কাটাতে পছন্দ করে। কখনো নীরবে পানিতে ডুবে যায়, কিছুক্ষণ পর আবার ভেসে ওঠে। দক্ষ ডুবুরির মতো পানি ভেদ করে ছোট ছোট মাছ শিকার করা এদের প্রধান খাদ্য।

জলকেলি এবং জলের ওপর ভেসে বা ডানা মেলে রোদ পোহানো এদের প্রিয় অভ্যাস। দিনের এক সময়ে জলের ধারে গাছের ডালে বসে সূর্যের উষ্ণতায় ভেজা শরীর শুকিয়ে নেয়।

পানকৌড়ির দেহ সাধারণত কালচে বা গাঢ় বাদামি, দূর থেকে অনেকটা কালো মনে হয়। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৪০ প্রজাতির পানকৌড়ি রয়েছে। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে বড় বড় গাছে বাসা বাঁধে। বর্ষা ও শরৎকালই এদের প্রজনন মৌসুম, যা জুলাই থেকে অক্টোবর (আষাঢ়-কার্তিক) পর্যন্ত চলে। এই সময় ডিম পাড়ে এবং তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে ছানা বের হয়।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-এর গবেষণা কর্মকর্তা শিহাব খালেদীন জানান, পানকৌড়িসহ অন্যান্য জলচর পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো জলাভূমির ধ্বংস, বাসা বাঁধার গাছের নিধন, মানুষের নির্যাতন, মাছের ঘাটতি, দূষণ এবং কলোনি বা উপনিবেশের উপর বিশৃঙ্খলা।

তিনি বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পানকৌড়িসহ সব ধরনের পাখিকে সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এক সময় দেশের জলাশয়ে অহরহ দেখা যেত পানকৌড়ির, তবে বর্তমানে সেই দৃশ্য বিরল। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই জলচর পাখির সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে। তাই জলাভূমি ও বাসস্থান রক্ষা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজনন স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বান্দরবান বাসস্টেশন এলাকায় পুলিশি অভিযান: ১০ লিটার চোলাই মদসহ এক নারী আটক।

সাংস্কৃতিক বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নজরুল বর্ষ ২০২৬ -২০২৭ উদযাপন।

পাঁচবিবি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক।

ফেসবুকে অস্ত্রের মহড়ার ছবি-ভিডিও: দোয়ারাবাজারে যুবক আটক, তদন্তে পুলিশ-বিজিবি।

সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় নুর হোসেনকে প্রেস ক্লাব থেকে বহিষ্কার।

রোয়াংছড়িতে থানা পুলিশের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।

নিজ অর্থায়নে শাহ্ মজিদিয়া রাস্তা সংস্কার করলেন সমাজসেবক এনামুল হক এনাম।

অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন, ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।

বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধে সবুজ বনায়নের পরিকল্পনায় স্থান পরিদর্শন ইউএনওর।

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে রোয়াংছড়ি উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ।

১০

চট্টগ্রামে নতুন ‘হালদা থানা’ অনুমোদন, বাড়ছে আইন-শৃঙ্খলার পরিধি।

১১

শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

১২

বাঁশখালীতে ভূমি বিরোধ: সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।

১৩

বাঁশখালীতে ভূমি বিরোধ: সাংবাদিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ।

১৪

দোয়ারাবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দ্বিতীয় কিস্তির চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ।

১৫

আলীগ্রামকে বুড়িগঞ্জে রাখার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ এলাকাবাসী।

১৬

দোয়ারাবাজারে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত।

১৭

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার।

১৮

বিধি ভেঙে বন্দরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ‘ব্যক্তিগত’ বিদায় অনুষ্ঠান ​সেবা না পেয়ে ক্ষোভ; বিদায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

১৯

বান্দরবান সদর পৌরসভা, ৩নং ওয়ার্ডে মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আন্দোলন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি।

২০