
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারি (রবিবার)।
ভারতের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। নতুন বাজেট অনুযায়ী, বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের ১২০ কোটি রুপির তুলনায় অর্ধেক।
ভারতের কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ক দ্বন্দ্ব এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানমুখী পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যসভায় জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের—বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের—নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ’ করা হচ্ছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিকবার বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বিষয়টি উত্থাপন করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক বর্তমানে নতুন গতি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে মিশরে এক সম্মেলনের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান ও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। শাহবাজ শরীফ বৈঠককে ‘উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এরপর ঢাকা ও ইসলামাবাদ যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন পুনরুজ্জীবন এবং নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি দুই দেশের সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের নিয়ম চালু হয়। সম্প্রতি সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং পাকিস্তানের ফ্লাই জিন্নাহ ও এয়ার সিয়ালকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৪ বছর পর ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইট করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন ভারতীয় বিশ্লেষকরা।
অন্যান্য দেশের জন্য বরাদ্দ: ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ভুটানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮৯ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের ২ হাজার ১৫০ কোটি রুপির চেয়ে বেশি। ভারতের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। এটি তার নবম বাজেট।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন