
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলহর এলাকায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ইয়াবা কবিরের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির মাধ্যমে যুব সমাজকে ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ইয়াবা কবির ফুলহর এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহ ওরফে হবু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় তিনি মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে সিএনজি চালকের পেশায় যুক্ত হলেও সেই পেশার আড়ালে তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
বন্দর থানা সূত্র জানায়, ইয়াবা কবিরের বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত তিনটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও একসময় তিনি কথিত ‘ক্রসফায়ার’-এর তালিকাভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে তিনি ওই তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা কবির মূলত মদনপুর ও বন্দর উত্তরাঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও পরিবহন চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত আমিরের আশ্রয়ে থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
আরও অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ইয়াবা কবির নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রমযান আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে বন্দর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছিরুল্লাহ টিপুর সঙ্গেও তার সখ্যতা গড়ে ওঠে।
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় বন্দর থানা পুলিশ ইয়াবা কবিরকে গ্রেফতার করলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নাছিরুল্লাহ টিপু তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মন্তব্য করুন