
শাহরাস্তি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডস্থ কাজির কামতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২৫ জন শিক্ষার্থী ও ৮ জন শিক্ষক মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একদিকে পরিত্যক্ত ভবন, পাশেই পুকুর, মাঝখানে সড়ক। ত্রিমুখী এমন সমস্যার মাঝেই প্রতিদিনের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ছাদের নিচে বসেই অফিস করছেন শিক্ষকগণ। বিভিন্ন সময় পলেস্তরা ভেঙ্গে আহত হয়েছেন অনেকেই। জেলা শিক্ষা অফিসার সরজমিনে এসে ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে যান। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধার্থে পুকুর পাড়ে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে টিনের ঘরটি পুকুরে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জীবন ঝুঁকিতে আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই পাঠদান অব্যাহত রেখেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিদ্যালয়ের মাঝখান দিয়ে রয়েছে ঠাকুর বাজার-কাজির কামতা সড়ক। বিদ্যালয়ের সিঁড়ি ঘেঁষে সড়কটি অতিবাহিত হওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হামিদা বেগম জানান, স্কুলটি এক শিফটের হলেও কক্ষ না থাকায় বাধ্য হয়েই আমরা দুই শিফটে চালু করেছি। তিনি আরো বলেন, ভবনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা প্রতিদিন আতংকের মধ্যে থাকি কখন ভবনটি ভেঙ্গে পড়ে। সহকারী শিক্ষকা হাসিনা আক্তার জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে বসে অফিস করতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নিয়ে আমরা মহাসমস্যায় পড়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান অব্যাহত থাকায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
সমাজ সেবক শাহ আলম জানান , বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় যে কোনো সময় শিক্ষার্থীরা পুকুরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বিদ্যালয় ঘেঁষে চলা যানবাহনের সাথে লেগে আহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আমি স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন