
বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে বিক্ষোভ করেছে কয়েকশত জেলে। এসময় তারা তাদের কার্ড প্রদর্শন করে সরল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন। রবিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে জালিয়াঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই বিক্ষোভ করে জেলেরা। এসময় বিক্ষুব্ধ জেলেরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তারের অপসারণ ও বিচার দাবি করেন।
জানা গেছে, বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে ৬৯১ জন জেলের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি করে, ৩৩ মেট্রিক টন, চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার ২৬ টন চাল উত্তোলন করে বাকি চাল আত্মসাৎ করেন । এমন অভিযোগ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন জেলে নুরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে ৭,৮,৯,নংওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ফাতেমা বেগম বলেন চাল দিয়েছিল রমজান মাসের শেষ নাগাতে ৩২ কেজি করে, চাল কম দেওয়াতে ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করে পরে ৩৭ কেজি করে দিয়েছিল,কিন্তু সাধারণ জনগণ ২ মাসের চাল পাই নাই, কিন্তু এই ২ মাসের চাউল কোথায় গেছে আমাদের কে বলে নাই। ওনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ধরনের অবহেলা, তিনি আরও বলেন ওনি মেম্বারদের সাথে বসে না উনার মনে যা চায় তাই করে, তাই আজকে আমাদের পরিষদের এই অবস্থা।
জেলে নুরুল ইসলাম জানান, জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ হলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একবার ৩২ কেজি চাল দিয়ে বাকি চাল আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে অনেক জেলে সেই ৩২ কেজিও পায়নি। চাল না পেয়ে আমি জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
জেলে মনির উদ্দিন, মোহাম্মদ তৈয়ব, বাবুল দাশ, আবদুল আজিজ, মোহাম্মদ হাসান জানান, মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও কাউকে কাউকে ২৮ কেজি এবং ৩২ কেজি চাল দেন। অধিকাংশ জেলেকে চাল না দিয়ে ফেরৎ দেন।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীবের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফ চাল অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। সে সময় বিএনপি ও জামায়াতকে নাম মাত্র কিছু কার্ড ধরিয়ে দিয়ে অধিকাংশই আত্মসাৎ করেছিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা।
এলাকাবাসী জানান, তাকে অনিয়ম দুর্নীতিতে সহযোগীতা করছে সরল থেকে বদলি করা ইউপি সচিব হারুন। কিছু দিন অরুণ জয় ধর নামে শীলকূপের সচিবকে সরলে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলেও বর্তমানে রহিম উল্লাহকে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও পাসওয়ার্ডসহ পুরো নিয়ন্ত্রণ হারুনের হাতে বলে জানান এলাকাবাসী।
বলতে গেলে এখনো সরল ইউনিয়ন পরিষদ চালাচ্ছেন পলাতক চেয়ারম্যান মেম্বার ও দোসররাই। এমনকি আওয়ামী লীগের দোসর এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেকে সরকারের একজন সচিবের চাচী বলেও পরিচয় দিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, পরিষদের সচিব অরুণ জয় ধর এবং কয়েকদিন আগে আবার রহিম উল্লাহকে নামমাত্র সচিব হলেও সরল থেকে বদলি করা সচিব হারুনুর রশিদই এখনো সরল ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রক। এমনকি জন্ম মৃত্যু নিবন্ধনসহ পরিষদের কার্যক্রমের অনলাইন পাসওয়ার্ডও হারুনের হাতে।
এ ব্যাপারে সরল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার মুঠোফোনে ফোন করা হলে সাংবাদিকদের সামনাসামনি কথা বলবেন বলে একাধিক বার কল করে উপজেলায় সংবাদ সম্মেলনের জন্য আসবে বললেও তিনি আসেননি ।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম জানান, সরলে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয় শুনেছি। খবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য করুন