
কিশোরগঞ্জে এক কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাতে বিভিন্ন এলাকায় নারী করদাতার খোঁজে ঘোরাফেরা করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা অফিসের দায়িত্বের বাইরে কয়েকজন নারী চিকিৎসক করদাতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে কর কমিয়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার অফিসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাতের বেলায় কর অফিসের অতিরিক্ত সহকারী কর কর্মকর্তা (এডিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব ট্যাকসেস) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে বিভিন্ন এলাকায় ক্লিনিকগুলোতে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এএসিটি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ সময় কর পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত থাকায় পুরাতন অভ্যাসজনিত কারণে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি পছন্দ করেন।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিভাগীয় তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগে “রেনেসাঁ” নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের নিবন্ধন নবায়নের আবেদনে প্রায় দেড় কোটি টাকার কর বকেয়া রেখে আয়কর প্রত্যয়নপত্র দাখিলের সত্যতা জানতে গেলে ওই কর্মকর্তার আচরণের শিকার হন দুই সাংবাদিক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি সাংবাদিকদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং পুলিশ ডাকার হুমকিও দেন। পরে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন