
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মাদ্রাসার নামে চাঁদা সংগ্রহ ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন মাদ্রাসার পরিচালক দাবি করে ভিন্ন ভিন্ন নামে রশিদ বই ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন।
অভিযোগকারী হাফেজ মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, তিনি কিছুদিন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি দাবি করেন, সেখানে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চাপ দেওয়া হতো এবং চাঁদা সংগ্রহে ব্যর্থ হলে বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মাদ্রাসার নামে একাধিক রশিদ বই ছাপিয়ে তা ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এর কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হয় না। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে প্রায় তিন লক্ষ টাকার মতো চাঁদা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়াও হাফেজ তৌহিদুল ইসলামের দাবি, তার এক মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বেতন চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে কোনো স্বীকৃত মাদ্রাসার পরিচালক নন এবং তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়, বরং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও এতিমদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং ইসলামের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী বলছেন, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফোন করলে বলেন, তৌহিদ নামের লোকটি আমার কাছে টাকা পাবে সেটা ঠিক তবে এখন যে অবস্থা শুরু করেছে আমি টাকা দিব না, ও যা করতে পারে করুক।
এই বিষয়ে স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন