
লামা ও আলীকদম সংযোগ সড়কে ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করিয়া প্রতিদিন শতাধিক অতিরিক্ত তামাকপণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করিতেছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হইয়াছে। স্থানীয় সচেতন মহল, যাত্রীসাধারণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভিযোগ করিয়াছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন মালিক ও চালক দীর্ঘদিন ধরিয়া আইন অমান্য করিয়া এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালাইয়া যাইতেছেন।
গত ৫ মে শুক্রবার গভীর রাতে বদুর ঝিরি এলাকায় একটি তামাকবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারাইয়া রাস্তার পাশের একটি বিশাল গাছে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত বোঝাই ও পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়াছে, লামা ও আলীকদম অঞ্চলের বিভিন্ন তামাক কোম্পানির পণ্য দেশের নানা স্থানে পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ভোর হইতে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য ট্রাক চলাচল করে। অধিক মুনাফার আশায় অধিকাংশ ট্রাকেই নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত তামাকপণ্য বোঝাই করা হয়। ফলে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হইয়া দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পাইতেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি, ব্রেক বিকল কিংবা চালকের সামান্য অসতর্কতায় মুহূর্তেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা সংঘটিত হইতে পারে। ইতোমধ্যে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে বলিয়া স্থানীয়রা জানান।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এর প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো যানবাহনে নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অতিরিক্ত পণ্য বহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটিলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রহিয়াছে। তথাপি বাস্তবে আইন প্রয়োগে দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠিয়াছে “হায়রে ট্রাফিক বিভাগ, তুমি কার? এসব তামাক কোম্পানির খুঁটির জোর কোথায়?”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে। বিশেষ করিয়া পাহাড়ি ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকসমূহে ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কে ফাটল, গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হইয়াছে। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাইবার আশঙ্কা রহিয়াছে।
সচেতন মহল মনে করেন, নিয়মিত ওজন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ট্রাফিক পুলিশের কঠোর নজরদারি ব্যতীত এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নহে। তাহারা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করিয়াছেন।
পাহাড়ি জনপদের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাইয়া আনিতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত।
মন্তব্য করুন