
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।
সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে এখন গুঞ্জন—কে পাচ্ছেন পাহাড়ের জনপদ থেকে আগামীর জাতীয় সংসদে যাওয়ার চাবি? রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জেলা নিয়ে গঠিত তিনটি সংসদীয় আসনে এবার ভোটের লড়াইটা বেশ ভিন্নধর্মী।
দীর্ঘ কয়েক দশকের বঞ্চনা আর সংঘাতময় পরিবেশের অবসান চায় সাধারণ মানুষ। ভোটারদের দাবি, কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং তাদের মৌলিক অধিকার আর আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে হবে রাজনৈতিক ইশতেহারে।
এ বিষয়ে ভোটার-রা জানিয়েছেন: “আমরা পাহাড়ি জনপদে শান্তি চাই। পাহাড়ে যাতে আর রক্তপাত না হয়, আর আমাদের জমি নিয়ে যে ঝামেলা আছে সেটার সমাধান চাই। যে সরকার আমাদের অধিকার দেবে, আমরা তাকেই ভোট দেব।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বা শান্তি চুক্তির ২৮ বছর পার হলেও এর অনেক মৌলিক ধারা এখনো অবাস্তবায়িত। বিশেষ করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর না হওয়ায় বাড়ছে অসন্তোষ। অধিকারকর্মীদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ নতুন এক ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের’ স্বপ্ন দেখছে।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রা জানিয়েছেন,
“পাহাড়ের মানুষ এখন অনেক সচেতন। এবারের নির্বাচনে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সময়সূচি-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চাই। বিশেষ করে ভূমি অধিকার আর সামরিক কর্তৃত্বের স্থায়ী অবসানের মাধ্যমে স্থানীয় শাসন নিশ্চিত করতে হবে।”
নতুন ভোটারদের চাওয়া আরও আধুনিক। কর্মসংস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জাতীয় পর্যায়ে পাহাড়ি মেধাবীদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে এই প্রজন্মের মাঝে।
পাহাড়ের ভোটের সমীকরণ বরাবরই ভিন্ন। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতীয় দলগুলোও এবার ইশতেহারে পাহাড়ের দাবিগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। তবে ভোটাররা বলছেন, আশ্বাসে নয়, এবার তারা প্রতিফলন চান বিশ্বাসে।
প্রকৃতি আর সংস্কৃতির লীলাভূমি এই পাহাড়ে গণতন্ত্রের সূর্যোদয় ঘটবে কি না, তা জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে। তবে পাহাড়ের ভোটারদের বার্তা পরিষ্কার—অধিকার আর অস্তিত্বের প্রশ্নে তারা এবার কোনো আপস করতে রাজি নন।
মন্তব্য করুন