
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। এনসিপি এ সিদ্ধান্তকে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া এবং শিক্ষকদের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
বুধবার (১১ মার্চ) এনসিপির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১০ মার্চ ২০২৬ সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন ব্যক্তিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও শিক্ষকদের ওপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি শিক্ষকদের মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনির ঘটনা ঘটেছে। অতীতের এই অভিজ্ঞতা শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা আনার প্রেরণা হয়েছিল।
এনসিপি আরও জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড শিক্ষকদের এবং শিক্ষানুরাগী সমাজের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। এটি শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা একটি পশ্চাৎমুখী প্রবণতার আভাস পাচ্ছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছে, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এছাড়া, শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক সংস্কার বজায় রাখার মাধ্যমে শিক্ষকদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
মন্তব্য করুন