
বান্দরবানের লামায় অবৈধভাবে দলিল তৈরি করে মারমা সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের মালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে লামা বাজারের ব্যবসায়ী মো. সিদ্দিকুল আলম ডনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রতিকার চেয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্ত সিদ্দিকুল আলম ডন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল হামিদের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লামা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কলিঙ্গাবিল (কাটা পাহাড়ের নিচে) এলাকার ১৩৫ নম্বর খতিয়ানে বিভিন্ন দাগে মোট ১৮ একর ২১ শতাংশ প্রথম শ্রেণির জমি রয়েছে। জমাবন্দি অনুযায়ী এসব জমি আটজন মালিকের যৌথ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে হ্লাথোয়াই মগের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ২ একর ২৭ শতাংশ।
হ্লাথোয়াই মগ বিভিন্ন সময়ে আটজন ক্রেতার কাছে ৩ একর ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরে তিনি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুল আলম ডনের কাছে আরও ৭৬ শতাংশ জমি বায়নানামার মাধ্যমে বিক্রি করেন। এতে তাঁর মোট বিক্রয়কৃত জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ একর ১৯ শতাংশ। তবে অভিযোগ রয়েছে—তিনি অতিরিক্ত ১ একর ৯২ শতাংশ জমি অবৈধভাবে আরও ৯ জনের নামে দলিল করে দিয়েছেন।
হ্লাথোয়াই মগ লামা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেরাখোলা মারমা পাড়ার বাসিন্দা এবং ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার হেডম্যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে মো. সিদ্দিকুল আলম ডন সেই অবৈধ বায়নাকৃত দলিল দেখিয়ে প্রভাব খাটিয়ে খতিয়ানভুক্ত মৃত ক্রাইথোয়াই মগিণীর ওয়ারিশদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। রাতের আঁধারে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক মাটি ফেলে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবং চারদিকে পাকা খুঁটি স্থাপন করে জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনার পর মৃত ক্রাইথোয়াই মগিণীর মেয়ে বাদী হয়ে ইউএনও এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. সিদ্দিকুল আলম ডন বলেন আমি তো ক্রেতা। টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যার কাছ থেকে জমি কিনেছি তিনি অতিরিক্ত মালিকানা হস্তান্তর করেছেন কি না আমি জানি না। আমার জমি আমি দখলে রাখতে চাই।
মন্তব্য করুন