
বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দূর্গম পাহাড়ের ৪ শত বছরের অধিক পুরোনো মুরুং গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে চিংকুমঝিরি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।রুপসীপাড়া ইউনিয়নের চিংকুমঝিরি তরুণ সংঘ কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ ইং এর প্রতিযোগিতা মূলক ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় চিংকুম পাড়া মাঠে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে নাইক্ষ্যংমুখ ছাত্তার এিপুরা পাড়া একাদশ বনাম চিংকুম পাড়া ম্রো একাদশ দুই দল পরস্পর মুখোমুখি হয়। এক রোমাঞ্চকর ও কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার শেষে চিংকুম পাড়া একাদশ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ছাওার এিপুরা পাড়া একাদশ ০১ চিংকুম মুরুং পাড়া একাদশ ০২ গোলে চিংকুম পাড়া বিজয় লাভ করে।
চিংকুম পাড়া তরুণ সংঘ কর্তৃক আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে লামা উপজেলার মোট ১০ টি দল অংশগ্রহণ করেন। উক্ত ফাইনাল খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম বিশিষ্ট সমাজ-সেবক রুপসীপাড়া পাড়া ইউনিয়ন। ফাইনাল খেলার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পর্যন্ত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ শাহআলম চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ০৬ নং রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনসান বিশ্বাস,বিশিষ্ট সমাজ-সেবক রুপসীপাড়া ইউনিয়ন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,সাংবাদিকবৃন্দ সহ হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শকরা। উক্ত ফাইনাল খেলাটি দক্ষ রেফারি শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে পরিচালনা করে শেষ হয়।
চিংকুম পাড়া তরুণ সংঘ কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫ ইং এর ফাইনাল খেলায় সভাপতিত্ব করেন: মাংয়া মুরুং (কারবারি) চিংকুম পাড়া,রুপসীপাড়া ইউনিয়ন লামা।
সঞ্চালনায় : ইনচং মুরুং চিংকুম পাড়া,রূপসীপাড়া ইউনিয়ন লামা, বান্দরবান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ শাহআলম চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, আমাদের ০৬ নং রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ও প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে জাতীয় মানসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও লামা উপজেলা প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, মাদক কে না বলুন খেলা দুলায় মেতে উঠুন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও ক্রীড়া বিকাশেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে আমাদের রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ।
উক্ত ফাইনাল খেলায় উদ্বোধক রফিকুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন , এ ধরনের ইউনিয়ন ভিত্তিক টুর্নামেন্ট থেকে একদিন আমাদের গ্রাম অঞ্চলের তরুণরা জাতীয় দলে লামা উপজেলার তরুণদের জায়গা করে দেবে। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা সমাজে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে। এটি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখে এবং নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলবদ্ধ চেতনা গড়ে তোলে, যা জাতি গঠনে অপরিহার্য।
আয়োজকদের মতে, গত ১১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা খেলাধুলার উৎকর্ষের পাশাপাশি পাহাড়ি জনপদের সামাজিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন