
বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের পাগলীর আগায় অবস্থিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ ঋষি আশ্রমে আধ্যাত্মিক উল্লাস আর ভক্তিমাধুর্যে সম্পন্ন হয়েছে তিন দিনব্যাপী দীক্ষা অনুষ্ঠান ও অষ্টম প্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ মহোৎসব।
৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন ছিল শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জগন্নাথানন্দ ঋষিগুরু মহারাজের ৫৪তম শুভ আবির্ভাব দিবস।
আশ্রম প্রাঙ্গণে প্রাতঃকালীন ঋষি-ধ্বজা উত্তোলন, শুভ অধিবাস, গুরু পূজা, ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন, ধর্মসভা এবং পরমব্রহ্মচিন্তায় নিবিষ্ট নানা আয়োজনে তিন দিনজুড়ে ভক্ত-অনুসারীদের উপস্থিতিতে ছিল এক আধ্যাত্মিক–নির্মল পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের আশীর্বাদ উদ্বোধন ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জগন্নাথানন্দ পুরী গুরু মহারাজ, যিনি আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শ্রী সত্য স্বপন কান্তি নাথ, বিশিষ্ট ধর্মানুরাগী ও নাজির প্রশাসকের কার্যালয় কক্সবাজার।
পূর্বাপর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শ্রী সত্য চৈতন্য ব্রহ্মচারী স্বপন।
গুরু মহারাজ তার ধর্মীয় বাণীতে বলেন,
“ধর্ম মানুষের অন্তরের আলো জ্বালায়, দীক্ষা সেই আলোকে জীবনের পথে এগিয়ে চলে। আত্মশুদ্ধি, মানবসেবা ও সত্যপথে অটল থাকা—এই তিনেই ধর্মের সারসত্য।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুবায়েত আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), লামা ও প্রশাসক, ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়ন পরিষদ।
বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন আমির হোসেন আমু, যুগ্ম আহ্বায়ক, বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং জাকির হোসেন মজুমদার, সাবেক চেয়ারম্যান, ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়ন পরিষদ।
মহোৎসবে অংশ নেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, বিভিন্ন এলাকার ভক্ত–অনুসারী ও ধর্মানুরাগীরা। তিন দিনের এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো আশ্রমাঞ্চলে সৃষ্টি হয় শান্তি ও ভক্তির পবিত্র আবহ।
শেষ দিনে মহানাম যজ্ঞের অষ্টম প্রহর শেষে ভক্তদের মাঝে প্রীতি ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্য করুন