
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, সরই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা একই এলাকার গৃহবধূ রেহেনা বেগমকে প্রকাশ্য দিবালোকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন। নির্যাতনের শিকার রেহেনা বেগম জানান, তিনি সরই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল হালিমের কন্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভোট চুরি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তিনি গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে আগের মতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেলে ইউপি সদস্য জামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের স্থানীয় মজিবুরের দোকানের সামনে গৃহবধূ রেহেনা বেগমের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার দুই ভাইকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত রেহেনা বেগম ও তার দুই ভাইকে উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পরও ইউপি সদস্য জামাল হোসেনের সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের বাড়িঘরের আশপাশে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে। এতে করে গৃহবধূ রেহেনা বেগম ও তার পরিবার চরম জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
মন্তব্য করুন