
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় ফের আগুনের লেলিহান শিখায় তছনছ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি পরিবারের সাজানো সংসার ও স্বপ্ন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত রোয়াংছড়ি পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচটি পরিবারের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গবাদি পশুর খামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও সূত্রপাত স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারণা, জনৈক জসিম উদ্দিনের গরুর খামার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই সবকিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যায় ভুক্তভোগীরা।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক সব তথ্য। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্রঃ
জসিম উদ্দিন: তার মালিকানাধীন একটি বড় গরুর খামার সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। খামারের ভেতরে থাকা ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। জসিম উদ্দিনের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে।
মোঃ ইদ্রিস: তার একটি বাণিজ্যিক গুদাম ঘর আগুনে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গুদামে সংরক্ষিত থাকা বিপুল পরিমাণ সিম বীজ, বাদাম, হলুদ, আদা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কল্যাণময় তঞ্চঙ্গ্যা: আগুনে তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন চায়ের দোকানটি পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা।
মুঞ্যজয় তঞ্চঙ্গ্যা: আগুনের প্রচণ্ডতায় তার মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতঘরটি আসবাবপত্রসহ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা: অগ্নিকাণ্ডে তার মূল্যবান মোটরসাইকেলসহ ঘরের অন্যান্য সামগ্রী হারান তিনি।
নিঃস্ব পরিবারগুলোর আর্তনাদ অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় চারদিকে শুধু পোড়া ধ্বংসস্তূপ আর ক্ষতিগ্রস্তদের হাহাকার। গবাদি পশু হারিয়ে খামারি জসিম উদ্দিন এবং ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে মোঃ ইদ্রিসসহ অন্যান্যরা এখন বাকরুদ্ধ। বারবার রোয়াংছড়িতে এমন অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হাহাকার
মন্তব্য করুন