
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী-গোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র আনন্দধারায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মংপ্রু পাড়ায় উদযাপিত হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি (পানি উৎসব)। অশুভকে ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই উৎসবে মংপ্রু পাড়া মাঠ প্রাঙ্গণ রূপ নিয়েছিল পাহাড়ি জনপদের মিলনমেলায়।
উদ্বোধন ও প্রধান অতিথিঃ
মংপ্রু পাড়া মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাওসেতং তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সম্মানিত অন্যতম সদস্য। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সাংগ্রাই উৎসব কেবল একটি সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসবের জল ছিঁটানোর মাধ্যমে গত বছরের সকল গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে সবার মাঝে শান্তি ও ঐক্য বজায় থাকুক।”
বিশেষ অতিথিবৃন্দঃ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত ছিলেন:
গান্ধীলাল তঞ্চঙ্গ্যা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, রোয়াংছড়ি উপজেলা বিএনপি।
অংশৈচিং মারমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
মংক্যউ মারমা, সাবেক সভাপতি, ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন বিএনপি।
নুয়ইপ্রু মারমা, নেত্রী, রোয়াংছড়ি উপজেলা মহিলা দল।
উত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, আহ্বায়ক, রোয়াংছড়ি উপজেলা ছাত্রদল।
সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার বোসিং মারমা। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন উসাইশৈ মারমা ও অংথোয়াইচিং মারমা।
মংপ্রু পাড়ার খেলার মাঠে আয়োজিত এই জলকেলি উৎসবে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। মারমা লোকজ গান ও নৃত্যের তালে তালে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। আয়োজকরা জানান, এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মৈত্রী ও ভালোবাসার বারতা ছড়িয়ে দেওয়া। পুরাতন বছরের সব দুঃখ আর অশুভ শক্তিকে ধুয়ে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে পথচলার শপথ নিয়ে শেষ হয় এবারের সাংগ্রাই আয়োজন।
উৎসবে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক কমিটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন