
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।
মেঘালয়ের কোলঘেঁষা বান্দরবানের আকাশ এখন শুধু কুয়াশায় নয়, ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের সাদা-কালো পোস্টারে। গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মূলত পাল্টে গেছে পাহাড়ের দৃশ্যপট। ৩০০-নং বান্দরবান সংসদীয় আসনে এখন একটাই কথা—ভোট।পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ মাড়িয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে লড়াই হচ্ছে বহুমাত্রিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সাচিং প্রু জেরী, জাতীয় পার্টির আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ সুজাউদ্দীন এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন এর মোঃ আবুল কালাম আজাদ-সহ প্রার্থীরা রাত-দিন এক করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় জোটগত সমীকরণও এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সর্বশেষ ৩০০নং সংসদীয় আসনের প্রার্থী রা জানিয়েছেন: “আমরা পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে চাই। পাহাড়ে ও পুরো জেলা জুড়ে শান্তি আর সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে নেই নতুন প্রজন্মের ভোটাররাও। দুর্গম পাড়াগুলোতে প্রার্থীরা দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা বলছেন, যারা সুখে-দুখে পাশে থাকবে এবং পাহাড়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, তাদেরই বেছে নেবেন তারা।
এ বিষয়ে ভোটার-রা জানিয়েছেন: “আমরা চাই এমন একজনকে যে পাহাড়ে শান্তি আনবে। বাজারঘাট আর যাতায়াতের উন্নয়ন করবে।”
এ বিষয়ে আরো বান্দরবান পার্বত্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন:একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই ভোটযুদ্ধ।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে পুরো জেলা জুড়ে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন:আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে আমরা একটি নিটোল নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছি। জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল—সর্বত্রই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। আমরা সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই,আপনারা নির্বিঘ্নে প্রচারণায় অংশ নিন এবং ভোটের দিন কেন্দ্রে আসুন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
দুর্গম পাহাড়ের শান্তি আর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে। প্রশাসনও বদ্ধপরিকর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, ব্যালটের মাধ্যমে কার ভাগ্যে জোটে বান্দরবানের নেতৃত্বের চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন