
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপন্ন পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘সিএইচটি জলবায়ু ঘোষণা ২০২৬’ (CHT Climate Declaration 2026) শীর্ষক বিশেষ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
আজ বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের হলরুমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণা পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ (YDSB)। তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাওয়া এই সংস্থাটি এবার পার্বত্য অঞ্চলের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজমিন আলম তুলি। তিনি তার বক্তব্যে পাহাড়ের প্রকৃতি রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের এই সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে একঝাঁক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশীদার হিসেবে হাত মিলিয়েছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের গবেষণায় যারা কাজ করছেন:
SheRAA: ওমেন্স ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড অ্যাডাপ্টেশন অ্যালায়েন্স।
বংশীখা (Unmesh-Gondar): স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজে নিবেদিত সংস্থা।
C3ER: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ।
SPaRC: টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের মূল ব্যানারে ফুটে উঠেছে পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণের স্পন্দন। পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মাচাং’ ঘর এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণীর অলঙ্করণ সমৃদ্ধ ব্যানারটি উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। এটি মূলত পাহাড়ের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে যে নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে, তার প্রতীকী উপস্থাপন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান YDSB জানায়, ‘সিএইচটি জলবায়ু ঘোষণা ২০২৬’-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো:
পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা।
স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জলবায়ু অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
“তরুণদের হাত ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে এবং এই ঘোষণার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” — আয়োজক প্রতিনিধি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ের সবুজ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন এক অধ্যায় শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।
মন্তব্য করুন