
পাহাড়ের বুক জুড়ে এখন সাজসাজ রব। একদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর, অন্যদিকে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু ও সাংগ্রাই। উৎসবের এই সন্ধিক্ষণে বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সাবেক বান্দরবান সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক লুৎফর রহমান উজ্জ্বল।
আজ: ১৯ই মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকালে বান্দরবান সদর উপজেলা কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার: মারুফা সুলতানা খান হীরামুনী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি: অং চ মং মার্মা, জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান: এম, এ মোমেন চৌধুরী, সাবেক সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক: মোঃ জসিম উদ্দিন, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রহিম উল্লাহ ভূঁইয়া প্রমুখ। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ রা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জেলার মাঠ কাঁপানো ও জাতীয় ফুটবলার, ক্রিকেটার থেকে শুরু করে উদীয়মান অ্যাথলেট—সবাইকে এক কাতারে এনে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহারের ঝুড়িতে ছিল উৎসবের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও শুভেচ্ছা উপহার। লুৎফর রহমান উজ্জ্বল ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদদের হাতে এই উপহার তুলে দেন, যেন অর্থাভাব বা কোনো সীমাবদ্ধতা কারো উৎসবের আনন্দে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এবং স্থানীয় দুটি ক্লাবকে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
একজন স্থানীয় ক্রীড়াবিদ তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“সামনে ঈদ আর আমাদের সাংগ্রাই উৎসব। এই সময়ে আমাদের কথা কেউ সেভাবে মনে রাখে না। উজ্জ্বল ভাই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।”
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনরা বলেন, ক্রীড়াবিদদের এমন মূল্যায়ণ জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
লুৎফর রহমান উজ্জ্বল জানান, পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরো বলেন,
“ক্রীড়াবিদরাই জেলার গৌরব। উৎসবের আনন্দ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। ঈদ এবং বিজু-সাংগ্রাইয়ের এই মিলনমেলায় আমাদের খেলোয়াড় ভাইরা যেন পরিবার নিয়ে খুশি থাকতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।”
উৎসবের এই সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকুক—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানের ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন