
নিজস্ব প্রতিনিধি:
গতকাল ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ০৯:০০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বান্দরবান জেলা পুলিশের অভিযানে ১১ লক্ষ ৩৮ হাজার জাল নোট ও তিন যুবক কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন ০৪ নং দোছড়ি ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডস্থ ওয়াচ্ছাখালী সাকিনে জনৈক নূরুল ইসলামের দোকানের সামনে পুলিশ এ অভিযান চালিয়ে সফল হয়।
এ সময় ৪ জন আসামির মধ্যে ৩ জন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, ১. হাবিব উল্লাহ (১৯), পিতা-মোহাম্মদ রশিদ, মাতা-জামালিকা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা-ক্যাম্প-১ ইস্ট, ব্লক-ই/৯, এফসিএন নং-১৬৬০৭৪,
২. মোঃ আবুল হাশেম (৩২), পিতা-মৃত ইমাম উদ্দিন, মাতা-মায়মুনা বেগম, সাং-কুতুপালং পশ্চিম পাড়া, ০৯ নং ওয়ার্ড,
৩. আলী জোহার (২৮), পিতা-নুরুল ইসলাম, মাতা-লায়লা খাতুন, স্থায়ী ঠিকানা-ক্যাম্প-১ ইস্ট, ব্লক-ই/৯, সর্ব থানা-উখিয়া, জেলা-কক্সবাজার। এবং
পলাতক আসামির পরিচয়, লোকমান হাকিম কালা পুতু (৩৪), পিতা-নূরল ইসলাম, সাং-লেমুতলী, ৫নং ওয়ার্ড, ০৪ নং দৌছড়ি ইউপি, থানা-নাইক্ষ্যংছড়ি, জেলা-বান্দরবান।
এ সময় ঘটনাস্থল হতে পুলিশের জব্দকৃত আলামত এর মধ্যে ছিল, ১/ একটি কালো রংয়ের পলিথিনের বাজারের ব্যাগ।
২/ ১০০০ টাকা সমমূল্য মানের কথিত জাল নোটের ১২ টি বান্ডেল যাহাতে সর্বমোট ১১৩৮টি কথিত জাল নোট যাহার পরিমাণ (১১৩৮×১০০০)= ১১,৩৮,০০০ (এগার লক্ষ আটত্রিশ হাজার) কথিত জাল টাকা।
৩/ একটি পুরাতন সিএনজি যাহার রেজি নং-কক্সবাজার-থ ১১-৮৪৫৩।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, গোপনীয় সূত্রে এ অভিযান পরিচালিত হয় এবং সফলতা ও এসেছে। আসামি ৪ জনের মধ্যে ৩ জন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ১ জন পলাতক রয়েছে। সেই আসামি কেও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। সর্বোপরি পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য: গত ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার এসআই (নিরস্ত্র) পংকজ কুমার সাহা এবং সঙ্গীয় ফোর্সসহ বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন ০৪ নং দোছড়ি ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডস্থ ওয়াচ্ছাখালী সাকিনে জনৈক নুরুল ইসলামের দোকানের সামনে হতে জাল টাকা ক্রয় বিক্রয় দলের সদস্য হাবিব উল্লাহ (১৯), পিতা-মোহাম্মদ রশিদ, মাতা-জামালিকা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা: ক্যাম্প-১ ইস্ট, ব্লক-ই/৯, এফসিএন নং-১৬৬০৭৪, থানা: উখিয়া, জেলা: কক্সবাজারকে সর্বমোট ১২ টি বান্ডেলে ১১৩৮ টি ১০০০ টাকার সম মূল্যের কথিত জাল নোট। অর্থাৎ সর্বমোট ১১,৩৮,০০০ (এগার লক্ষ আটত্রিশ হাজার) কথিত জাল টাকা উদ্ধার পূর্বক বর্ণিত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্য মোতাবেক দ্রুত উখিয়া থানাধীন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত জাল টাকা চক্রের আরেক সদস্য আলী জোহার (২৮), পিতা-নুরুল ইসলাম, মাতা-লায়লা খাতুন, স্থায়ী ঠিকানা: ক্যাম্প-১ ইষ্ট, ব্লক-ই/৯, থানা: উখিয়া, জেলা: কক্সবাজার গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। তখন উক্ত আসামি আলী জোহর এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাল টাকা ক্রয় বিক্রয়ের অন্যতম মূল হোতা মো. আবুল হাসেম (৩২), পিতা-মৃত ইমাম উদ্দিন, মাতা-মায়মুনা বেগম, সাং-কুতুপালং পশ্চিম পাড়া, ০৯ নং ওয়ার্ড, থানা: উখিয়া, জেলা: কক্সবাজারকে গ্রেফতার করে এবং বর্ণিত আবুল হাসেমের মালিকানাধীন জাল টাকা পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি যাহার রেজি নং-কক্সবাজার-থ-১১-৮৪৫২, উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল টাকার ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ থাকায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার মামলা নং-০৮, তারিখ-২৬/১২/২০২৫ খ্রি : ধারা- The Special Power Act 1974 এর 25 B/25 D রুজু করা হয়। মামলাটি এসআই (নিরস্ত্র) নয়ন চন্দ্র দাশ তদন্ত করছেন। জাল টাকার মূল উৎস নিরুপনসহ আরো যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।বান্দরবান পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা মোতাবেক, সহকারী পুলিশ সুপার, লামা সার্কেল এর নেতৃত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার একটি চৌকস অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
মন্তব্য করুন