
পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট। জেলার পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুম চলায় এই সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দীর্ঘ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে করে পর্যটন জেলা হিসেবে খ্যাত বান্দরবানের স্বাভাবিক জনজীবন ও পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পাম্পে দীর্ঘ সারি, মিলছে সীমিত তেল
সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান শহরের প্রবেশমুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার দীর্ঘ সারি। পাম্প কর্তৃপক্ষ তেলের মজুদ কমে যাওয়ার অজুহাতে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকে সামান্য তেল পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, “আমি গত দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। পাম্প থেকে বলা হচ্ছে তেল শেষ হয়ে আসছে, তাই সবাইকে ২০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই সামান্য তেল কিছুই না।”
দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন জেলা হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক বান্দরবানে ভ্রমণে আসেন। এই সংকটের কারণে পর্যটকবাহী জিপ (চান্দের গাড়ি), মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়িগুলো চলাচলে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক পর্যটক নীলগিরি, থানচি বা রোয়াংছড়ি ও রুমা উদ্দেশ্যে রওনা দিতে চাইলেও পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি দ্রুত এই তেলের সংকট নিরসন না হয়, তবে পর্যটন মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এই জেলা। পর্যটকরা যাতায়াত বিড়ম্বনার কারণে বান্দরবান ভ্রমণে বিমুখ হতে পারেন।
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে স্থানীয় পাম্প মালিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। পর্যটকদের বাড়তি চাপের কারণে তেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় তারা স্থানীয় এবং পর্যটকদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তায় তেল বণ্টন করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, তেলের এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কালোবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ দ্রুত জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে।
মন্তব্য করুন