
বান্দরবান জেলার লামা বনবিভাগের আওতাধীন বমু রিজার্ভের পাহাড়ি বনাঞ্চলে এই বিশালাকৃতির তেলসুর গাছটি রয়েছে। বুক সমান উচ্চতায় সাড়ে ষোল ফিট বেড় বিশিষ্ট এই তেলসুর গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ২০০/২২০ ফুটেরও অধিক ।
বমু রিজার্ভের পাহাড়ি ইকোসিস্টেমে এ সুবিশাল গাছের জম্ম প্রাকৃতিকভাবে ব’লে জানা যায়। গাছটির পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তার নিরাপদ বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল ও সুবিধাজনক। খুব নিকট থেকে পর্যবেক্ষনে গাছটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখাশোনা করছেন লামা বন-বিভাগ আওতাধীন বমুবিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন। তাছাড়াও এ গাছের স্বাভাবিক শারিরীক বৃদ্ধি এখনো লক্ষনীয়,কালের স্বাক্ষী হিসেবে এ বিশালাকৃতির মহিরুহের সান্নিধ্য যেন সুশীতল সুখানুভবের, সুবিমল ভাল লাগার মতো।
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বমু রিজার্ভ ফরেস্ট (Bamu Reserved Forest) এক সময় বিশালাকার ও প্রাচীন সব তেলসুর গাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। এই বিশাল তেলসুর গাছ এবং এর বৈজ্ঞানিক পরিচিতি তুলে ধরা হলো: তেলসুর গাছের বৈজ্ঞানিক পরিচিতি বৈজ্ঞানিক নাম: Hopea odorata (হোপিয়া ওডোরোটা) পরিবার: Dipterocarpaceae (ডিপ্টেরোকার্পাসি) ইংরেজি নাম: Rock Dammar / White Thingan
বমু রিজার্ভে এই তেলসুর গাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ও এইগুলো কয়েকশ বছরের প্রাচীন গাছ। এখানকার বিশাল তেলসুর গাছগুলোর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো:
বিস্ময়কর উচ্চতা:
এখানকার পূর্ণবয়স্ক তেলসুর গাছগুলো সাধারণ ভাবে ১৫০ থেকে ১৮০ ফুট (৬০/৭০ মিটার) পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বমু রিজার্ভের এই বনে অন্যান্য গাছের মাথা ছাড়িয়ে এগুলো সোজা আকাশের দিকে উঠে।
কাণ্ডের বিশালতা: এই গাছগুলোর গোড়ার পরিধি বা বেড় অনেক বড় আকৃতির হয়। অনেক ক্ষেত্রে এক- একটি গাছের গোড়া ৪/৬ মিটার বা তার চেয়ে বেশি চওড়া হতে দেখা যায়। এর কাণ্ড অত্যন্ত সোজা এবং সিলিন্ডার আকৃতির।
গাছের ছাল ও রং: বয়স্ক গাছের ছাল গাঢ় বাদামী বা কালচে রঙের হয় এবং এতে লম্বা-লম্বিভাবে গভীর ফাটল দেখা যায়।
লামা বিভাগীয় বন-কর্মকর্তার আওতাধীন বমুবিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘায়ু ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব হিসেবে : বমু রিজার্ভে তেলসুর গাছগুলো কয়েকশ বছর ধরে টিকে আছে এবং আমি যতদিন এইখানে আছি আমার জীবন বাজি রেখে হলেও আমি এই রিজার্ভের তেলসুর গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং ভূমি রক্ষায় নির্দ্বিধায় দায়িত্ব পালনে অটল থাকবো। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বনের “প্রহরী” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গাছগুলো আমাদের দেশের চিরহরিৎ বনাঞ্চলের আদি রূপের সাক্ষ্য বহন করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও বন উজাড়ের কারণে বমু রিজার্ভ সহ আরো বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকায় সেই আদিম বিশাল তেলসুর গাছগুলো এখন আগের চেয়ে সংখ্যায় অনেক কমে গেছে। তবে এখনও অবশিষ্ট যে কয়েকটি বিশালাকার গাছ টিকে আছে, সেগুলো রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ।
মন্তব্য করুন