
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি, তীব্র যানজট এবং বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাঁশখালী উপজেলা শাখা।
রোববার দুপুরে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে দলীয় নেতাকর্মী, সচেতন ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী রুটে পরিবহন খাতে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাওয়াদুল করিম। তিনি বলেন,
“ঈদ এলেই বাঁশখালী রুটের পরিবহন সেক্টরে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। অসাধু সিন্ডিকেট সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। চানপুর, গুনাগরী, মিয়ারবাজার ও চাম্বল বাজারে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানো এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঈদের সময়ে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন সড়কে নামিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাশফিকুর রহমান বলেন,
“ভাড়ার নামে প্রকাশ্য ডাকাতি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের এই নীরব শাস্তি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
বাঁশখালী উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী সাকিবুল ইসলাম বলেন,
“জাতীয় নাগরিক পার্টি সবসময় সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে মাঠে ছিল এবং থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।”
এসময় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাঁশখালী উপজেলার সভাপতি এইচ এম আব্বাস খান বলেন, নতুন ব্রিজ ও মইজ্জারটেক এলাকায় প্রশাসনের নামে চলমান টোকেন বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তিনি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাঁশখালী ছাত্র সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা এনসিপির সংগঠক মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আব্দুল আলীম।
মানববন্ধন শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির বাঁশখালী উপজেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে প্রতিটি স্টেশনে ভাড়ার তালিকা টানানো, সার্বক্ষণিক বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গুনাগরী-মিয়ারবাজার-চাম্বল বাজারে নির্দিষ্ট ‘পিক অ্যান্ড ড্রপ জোন’ স্থাপন, বিশেষ ট্রাফিক স্কোয়াড গঠন এবং বেপরোয়া ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ স্মারকলিপি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন এবং ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন