
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা লামায় আজ স্বপ্নের ফ্যামিলি কার্ডের পথ চলা শুরু হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এই মহৎ উদ্যোগের পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয় আজ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। সহস্রাধিক মানুষের স্বপ্নের এই স্মারকটি এখন আর শুধু পরিকল্পনার পাতায় আবদ্ধ নয়; বরং এটি বাস্তবতার মুখ দেখল লামার মাটিতে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ফ্যামিলি কার্ড একটি বিপ্লবী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার পাবে তার প্রাপ্য সেবা ও অধিকার। এটি শুধু একটি কার্ড নয়, এটি একটি পরিবারের পরিচয় ও নিরাপত্তার প্রতীক।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বান্দরবানের মাননীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী এবং লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসার মোহাম্মদ ওসমান গনি, যুগ্ম আহবায়ক জসিম উদ্দিন তুষার, আব্দুল মাবুদ, লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আমির হোসেন আমু প্রমুখ। এছাড়া লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনুঅং চৌধুরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের মিয়া, লামা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসনে বাহার, সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোহাম্মদ জাকের হোসনে সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “লামা উপজেলা এই পাইলটিং প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী। সরকারের এই উদ্যোগকে সফল করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন লামা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক। তিনি একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল সঞ্চালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, লামা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে লামার পাইলট এলাকাগুলোতে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। সবার প্রত্যাশা, এই কার্ড লামাবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে সরকারি সেবার নিশ্চয়তা ও একটি উন্নত জীবনের স্বপ্ন।
মন্তব্য করুন