
ইসরায়েল-হামাস বন্দী বিনিময় চুক্তির অধীনে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি নিঃসন্দেহে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনেছে। কিন্তু মুক্তির পরই বন্দীদের দেওয়া বর্ণনা ইসরায়েলি কারাগারগুলোর অন্ধকার ও অমানবিক দিকটি উন্মোচন করেছে। মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দী আবদুল্লাহ আবু রাফে ইসরায়েলের ওফার কারাগারকে “কসাইখানা” বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা বন্দীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
কসাইখানা’ শব্দটি কেবল খারাপ অবস্থার প্রতীক নয়; এটি চরম অবমাননা, নিষ্ঠুরতা এবং জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীনতার ইঙ্গিত দেয়।
আবু রাফে’র বর্ণনায় উঠে এসেছে—ওফার কারাগারে কোনো বিছানা ছিল না, এবং খাবারের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। একজন বন্দীর জন্য ন্যূনতম মানবিক সুবিধাটুকুও সেখানে ছিল না, যা শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক নিপীড়নও বাড়িয়ে তোলে।
আরেক মুক্ত বন্দী ইয়াসিন আবু আমরা জেলের পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেখানে খাবার, পানি ও নির্যাতন ছিল ভয়াবহ এবং তিনি টানা চার দিন কিছু খেতে পারেননি। খাবার ও পানির মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত করা এবং শারীরিক নির্যাতন চালানোকে ‘কসাইখানার’ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা অস্বাভাবিক নয়।
ইসরায়েল প্রায় ২৫০ জন আজীবন ও দীর্ঘমেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের ‘কসাইখানা’ সদৃশ পরিবেশে বন্দী থাকা একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে। এই পরিবেশে থাকা হাজার হাজার তরুণ ফিলিস্তিনি বন্দীর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আবু রাফে।
যদিও মুক্তি পাওয়া বন্দী সাঈদ শুবাইর স্বাধীনতার অনুভূতিকে ‘শিকলবিহীন সূর্যের আলো দেখা’ বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কারাগারের ভেতরের ভয়াবহতা এবং মুক্তির পরও অনেকের নির্বাসিত হওয়ার খবর এই আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এই নির্বাসন এই সত্যকে সামনে এনেছে যে, ফিলিস্তিনিদের জন্য বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়াই শেষ নয়, তাঁদের বঞ্চনার সংগ্রাম আরও দীর্ঘ।
এই বন্দীদের জবানবন্দি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছে ইসরায়েলি জেল ব্যবস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছে।
মন্তব্য করুন