
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।
পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে এখন নতুন রাজনৈতিক আলাপ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা লিফলেট হাতে এখন পাহাড়ি পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে এবার আর শুধু বাংলায় নয়, পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় ভাষার মেলবন্ধনে সাজানো হয়েছে এই প্রচার অভিযান।
চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খুমি এবং পাংখোয়া—এই ৮টি প্রধান ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে ৩১ দফার মূল সারসংক্ষেপ। দলটির ভাষ্য, পাহাড়ের মানুষের কাছে তাদের ভাষায় আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা পৌঁছে দেওয়াই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় বিএনপি-র এক নেতা বলেন: “আমরা চাই পাহাড়ের প্রতিটি মানুষ বুঝুক যে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু রাষ্ট্র গড়তে চায়। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার কী, তা তাদের নিজস্ব ভাষায় আমরা পৌঁছে দিচ্ছি।”
পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যারা বাংলা ভাষায় ততোটা অভ্যস্ত নন, তারা নিজ মাতৃভাষায় রাজনৈতিক প্রস্তাবনাগুলো পড়ে আনন্দিত।
স্থানীয় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এক বাসিন্দা বলেন: “আগে বড় বড় কথা বুঝতাম না। এখন আমাদের ভাষায় লেখা দেখে বুঝতে পারছি তারা কী করতে চায়। এটা আমাদের জন্য সম্মানের ও গৌরবের।”
শুধু লিফলেট বিতরণই নয়, হাট-বাজারে ছোট ছোট পথসভা এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমেও দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে এই ৩১ দফা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—তিন পার্বত্য জেলাতেই একযোগে চলছে এই জোরালো প্রচারণা।
পাহাড়ের মানুষের দাবি ও অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনেক সময় ভাষাগত দূরত্বের কারণে অস্পষ্ট থেকে যেত। বিএনপির এই ৮ ভাষায় প্রচারণা সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে পাহাড়ি জনপদকে আগামীর রাষ্ট্র মেরামতের মূল ধারায় কতটা সম্পৃক্ত করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন