
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।
পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে এখন শুধুই উৎসবের রঙ। দেশের সর্বশেষ বান্দরবান ৩০০নং সংসদীয় আসনে সাচিং প্রু জেরীর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ। ব্যালট বক্সের রায় বলছে, জনগণের বিপুল সমর্থনে আবারও ২য় বারের মতো পাহাড়ের নেতৃত্বে ফিরছেন এই প্রভাবশালী নেতা।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। এই বিজয়কে কেবল ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জয় হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোটার ও সমর্থকরা।
বান্দরবান ৩০০নং আসনে বেসরকারি ফলাফল একনজরে: ৭টি উপজেলা ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৭টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩,১৫,৪২২জন তারমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,৬১,৭৭৫জন নারী ভোটার সংখ্যা ১,৫৩,৬৪৭জন। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-র (ধানের শীষ প্রতীক) এর সাচিং প্রু জেরী-র প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যা ১,৪১,৪৫৫ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল প্রতীক) এর আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ-র প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যা ২,৪৩৫ ভোট, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি-র মোঃ আবু সাঈদ সুজা উদ্দিন এর প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যা ২৬,১৬২ ভোট, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা প্রতীক) মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যা ৪,৭১৮ ভোট।
সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন:
“আমরা পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলাম। আজ আমাদের পছন্দের নেতা জয়ী হয়েছেন। আমরা চাই বান্দরবানে শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়ন বজায় থাকুক।”
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাচিং প্রু জেরীর বাসভবনের সামনে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। সাচিং প্রু জেরী তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই বিজয়কে বান্দরবানবাসীর প্রতি উৎসর্গ করেছেন এবং আগামী দিনে পাহাড়ে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর। এখন অপেক্ষা নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে বান্দরবানের অগ্রযাত্রার।
সাচিং প্রু জেরীর এই ভূমিধস বিজয় বান্দরবানের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। সাধারণ মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন