
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বীর বওলা গ্রামের উছিম উদ্দিনের পুত্র মোঃ আজাদ মিয়ার প্রতারণা কোনো মতেই থামছে না। তার প্রতারণার ধারাবাহিকতায় একাধিক পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে।
তার প্রতারণার ছোবলে নিঃস্ব পরিবারগুলো প্রশাসনের ধারস্থ হয়েও পাচ্ছে না ন্যায় বিচার।
সম্প্রতি একটি লড়ি গাড়ির একই বডি বার বার বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করছেন। এরই জের ধরে ব্যাপক উত্তেজনা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলামের চাচা মোঃ জুলহাস উদ্দিন,সাংবাদিকদের জানান ‘আমার বাতিযা লড়ি গাড়ীর পিছনের বডি অংশটুকু ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দিয়ে ক্রয় করি। পরবর্তীতে ০৫/০৭/২০২৫ইং তারিখ আমাকে আজাদ মুঠোফোনে বলে তার এক গাড়ী বালু লাগবে। পরবর্তীতে আমার লড়ি গাড়ীর ড্রাইভার একলাছ মিয়া এক গাড়ী বালু নিয়ে যায়।
বালু ফালানো কাজ শেষ করে আসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে আজাদ আমার গাড়ীর ড্রাইভারকে বলে গাড়ীর পিছনের অংশটুকু রাখিয়া যাও। ড্রাইভার তার কথা না শুনায় আজাদ তার লোকবল নিয়ে জোরপূর্বক গাড়ির বডির পিছনের অংশটুকু রেখে দেয় এবং ড্রাইভারকে মারধর করে।’
এই ঘটনায় বিএনপি নেতা সেলিম মিয়া জানান, তিন ইউনিয়নের বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরানগঞ্জ বাজারে তিনবার সালিশি বৈঠকের লড়ী গাড়িটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, দিয়ে দিচ্ছি বলে কোনো সুরাহা হয়নি।
পরানগঞ্জের এমরান হোসেন বলেন লড়ী গাড়ি বিক্রয় করার সময় আমার উপস্থিতিতে আশরাফুল ইসলাম এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা গুনে দেই আজাদকে। পরবর্তীতে প্রতারক আজাদ শুম্ভগঞ্জের স্বপন মিয়ার কাছে বিক্রয় করে দেয়।
স্থানীয় মাতাব্বর সহ এলাকার খাইরুল ইসলাম বলেন চিহ্নিত প্রতারকের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত একাধিক পরিবার।এ ছাড়া এলাকার অনেক লোকেরও টাকা মেরে দিয়েছে। প্রতারকদের মহাফাঁদ থেকে বাদ যাচ্ছে না কেউই।
অভিযুক্ত প্রতারক মো: আজাদ মিয়ার মুঠোফোনে কল করে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এমনকি তার বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন, সে বাড়িতে নেই।
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আমলী আদালতে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৮৭/১০৯/৫০৬ ধারাই মামলা দায়ের করেন। যাহার মোকদ্দমা নং ২২৫৯/২৫
অভিযোগকারী পক্ষকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতের বিধানমতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত পূর্বক সাক্ষীদের সাক্ষ্য সংযুক্ত করে আগামী ধার্য তারিখের মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অফিসার ইনচার্জ, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন আদালত ।
মন্তব্য করুন